গভীর রাতে স্কুলের তালা ভেঙে দুর্ধর্ষ চুরি : নগদ টাকা ও মূল্যবান নথি গায়েব !

গভীর রাতে স্কুলের তালা ভেঙে দুর্ধর্ষ চুরি : নগদ টাকা ও মূল্যবান নথি গায়েব !

ডাঃ কেরামত আলী,কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা):

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার উত্তর শ্রীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরি ও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। চোর চক্রটি স্কুলের তালা ও আলমারি ভেঙে নগদ টাকাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অত্যন্ত জরুরি ও সংবেদনশীল নথিপত্র এবং মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস. এম. হাফিজুর ইসলাম বাদী হয়ে আইনগত প্রতিকার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কালিগঞ্জ থানায় এক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ ও সরেজমিন তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) গভীর রাতে একদল সংঘবদ্ধ চোর চক্র পরিকল্পিতভাবে বিদ্যালয়ের ভবনের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সকালে স্থানীয়রা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে বিভিন্ন কক্ষের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে প্রধান শিক্ষক এস. এম. হাফিজুর ইসলামকে বিষয়টি অবহিত করেন।

খবর পেয়ে দ্রুত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও শ্যামনগর সরকারি মহসিন কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মনজুরুর রহমান, বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব আব্দুল মাজেদ সরদার, সহকারী প্রধান শিক্ষক সুমন চন্দ্র, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম রেজা এবং অফিস সহকারী শাফায়েত উল্লাহ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে পরীক্ষা করে জানায়, চোর চক্রটি প্রশাসনিক কক্ষের আলমারি ভেঙে ভেতরে থাকা নগদ গচ্ছিত অর্থ, গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক নথিপত্র, শিক্ষার্থীদের মূল্যবান মূল সার্টিফিকেট সংক্রান্ত কাগজপত্র, একাধিক বৈদ্যুতিক ফ্যান, দুটি পানির মোটরসহ প্রয়োজনীয় বেশ কিছু আসবাবপত্র ও সামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছে। এ বিপুল পরিমাণ মালামাল ও কাগজপত্র খোয়া যাওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও স্বাভাবিক শিক্ষাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রাথমিক আলামত দেখে মনে হচ্ছে এটি কেবল সাধারণ কোনো চুরির ঘটনা নয়; বরং বিদ্যালয়টির ক্ষতিসাধন করা ও শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির করার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ কুচক্রী মহল দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। তারা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে চুরির মূল হোতাদের শনাক্ত করার জোর দাবি জানান।

পাশাপাশি তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চুরি যাওয়া মূল্যবান নথিপত্র উদ্ধার এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান, যাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে তা দূর হয়।

কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি টিম ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। খুব দ্রুত চুরির নেপথ্যে থাকা চক্রটিকে চিহ্নিত করে মালামাল উদ্ধারসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *