বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া :
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কলাপাড়া উপজেলার মৎস্য বন্দর মহিপুরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বিশাল আকৃতির দুটি কোরবানির গরু—’ভয়ংকর’ ও ‘বাদশা বাবু’। এদের বিশাল আকার, চমৎকার গড়ন ও সৌন্দর্যের কারণে প্রতিদিনই গরু দুটিকে একনজর দেখতে খামারে ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার উৎসুক মানুষ।
মহিপুর থানা সদর ইউনিয়নের নিজ শিববাড়িয়া গ্রামের গাববাড়িয়া স্লুইসগেট সংলগ্ন এলাকায়, খামারি মো. ইব্রাহিম হাওলাদারের খামারে পরম যত্নে লালন-পালন করা হয়েছে এই গরু দুটি। দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করা এই জোড়া গরুর মোট দাম চাওয়া হচ্ছে ১৬ লাখ টাকা।
খামার সূত্রে জানা গেছে, গরু দুটির জাত ও আকার ভিন্ন। ভয়ংকর ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটির ওজন প্রায় ১৮ মণ। এর বিশাল দেহের কারণে নাম রাখা হয়েছে ‘ভয়ংকর’। রাজকীয় চেহারার এই গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ৯ লাখ টাকা। বাদশা বাবু শাহীওয়াল জাতের এই গরুটির ওজন প্রায় ১৭ মণ। শান্ত স্বভাবের এই গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে ৭ লাখ টাকা।
খামারি মো. ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, গরু দুটি এখন আমাদের পরিবারেরই একটি অংশ হয়ে গেছে। ছোটোবেলা থেকে অত্যন্ত যত্ন নিয়ে এদের বড় করেছি। কোনো ধরনের কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া বা ক্ষতিকর হরমোন ও ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি। নিয়মিত কাঁচা ঘাস, ভুট্টার সাইলেজ, খড়, ভুসি ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিচর্যার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, চার বছরে গরু দুটির পেছনে তাদের প্রায় ১২ লাখ টাকার মতো ব্যয় হয়েছে।
খামারের কর্মচারী সোলায়মান খান জানান, প্রতিদিন নিয়ম করে গোসল করানো, ঘর পরিষ্কার রাখা ও সময়মতো খাবার দেওয়ার কারণে গরু দুটি এত সুন্দরভাবে বেড়ে উঠেছে।
স্থানীয় পশু চিকিৎসক আহসান হাবিব বলেন, গরু দুটিকে আমরা নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও পর্যবেক্ষণে রেখেছি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ও সুষম খাদ্য দেওয়ায় এগুলো অত্যন্ত সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান রয়েছে।
প্রতিবেশী হাবিব সরদার জানান, এত বড় ও আকর্ষণীয় গরু এই এলাকায় সচরাচর দেখা যায় না। তাই প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ খামারে ভিড় করছেন। স্থানীয় যুবক মো. সাকিব ও মো. সিয়াম জানান, খামারির অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে গরু দুটি এত সুন্দর হয়েছে এবং তারা আশা করছেন হাটে এবার খামারি বেশ ভালো দাম পাবেন। ছবি সংগৃহীত।


