স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনের সীমানাঘেঁষা জমিতে থাকা প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পুরোনো আমগাছ কেটে বাজারে বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে হারেজ আলী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, গাছগুলোর শুধু গোড়ার অংশ রেখে বাকি পুরোটা কেটে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, স্টেশনের সামনের অংশে থাকা ছায়াসুনিবিড় এই আমগাছগুলো বহু বছর ধরে ছিল। হঠাৎ করেই একটি চিহ্নিত চক্রের মাধ্যমে গাছগুলো একে একে কেটে সরাতে দেখা যায়। এভাবে সরকারি বিপুল মূল্যের সম্পদ উজাড় হয়ে গেলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ও ভূমিকা নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গাছ কাটার অনিয়ম প্রসঙ্গে রেলওয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অনবগত থাকার কথা জানান। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের প্রভাব খাটায় এবং আড়ালে অবৈধ অর্থ লেনদেনের আশ্রয় নেয়। রেলওয়ের নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার কাছে বিশেষ সুবিধা পৌঁছে যাওয়ার কারণেই এই অপকর্মের পরও কোনো প্রশাসনিক অ্যাকশন নেওয়া হয় না বলে তাঁদের দাবি।
বিষয়টি নিয়ে জানতে কোটচাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি নিজের আওতাভুক্ত না থাকার দোহাই দেন। তাঁর মতে, স্টেশনের প্রশাসনিক কিংবা ভূসম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয় দেখভালের দায়িত্ব আলাদা বিভাগের কর্মকর্তাদের।
অবশ্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযুক্ত হারেজ আলী জানান, সংশ্লিষ্ট জমিটি তিনি রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিজ নিয়েছেন। সেই সূত্রে গাছগুলো তাঁর নিজেরই লাগানো ছিল বিধায় তিনি তা কেটেছেন এবং এতে আইনি কোনো বাঁধা দেখছেন না।
তবে লিজ নিলেও লিজের সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি এবং আইনগত নিয়ম মেনে অনুমোদন নিয়ে গাছগুলো কাটা হয়েছে কি না, তা নিয়ে বড় ধরণের সংশয় প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ রেলওয়ের সীমানার অভ্যন্তরে থাকা সমস্ত স্থাবর সম্পদ এবং গাছপালা পূর্ণাঙ্গ সরকারি সম্পত্তি। লিজের আওতাভুক্ত কোনো জমি হলেও সেখানকার গাছপালা কর্তন করতে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রশাসনিক অনুমোদন ও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে চলতে হয়। অনুমোদন ছাড়া সরকারি সম্পদ অপসারণ বা বিক্রি সরকারি সম্পদ ধ্বংসের শামিল, যা দণ্ডবিধি ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষা সংক্রান্ত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনা করে আইন ভঙ্গকারী ও এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে স্থানীয় মহল। ছবি সংগৃহীত।


