বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চার বছরের এক অবুঝ শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ৫০ বছর বয়সী প্রতিবেশী শহিদুল মুন্সির বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) বিকেলে উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের ছোনখোলা গ্রামে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনাটি অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পালিয়ে যেতে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করায় আলা মৃধা নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কলাপাড়া থানায় ভুক্তভোগী শিশুটির নানি ফুলবানু বেগম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পারিবারিক ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটির মা চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন। শিশুটি কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়নে তার নানি ফুলবানু বেগমের কাছে থাকত। ঘটনার দিন বিকেলে শিশুটি বাড়ির বাইরে খেলা করার সময় প্রতিবেশী অভিযুক্ত শহিদুল মুন্সি তাকে ফুসলিয়ে নিজের শূন্য ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরে নানির কাছে ঘটনার বর্ণনা দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
বিচারের দাবি জানিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নানি ফুলবানু বেগম বলেন “আমার নাতনিটা একেবারেই অবুঝ। প্রতিবেশী ওই লোক তাকে ডেকে ঘরে নিয়ে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেছে। আমরা এই পাশবিক লালসার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ বিচার চাই।”
এদিকে চাকরির সুবাদে ঢাকায় অবস্থানরত শিশুটির মা মুঠোফোনে জানান, কর্মক্ষেত্রে থাকার কারণে বাধ্য হয়ে সন্তানকে নানির কাছে রেখেছিলেন। নিজের মেয়ের সাথে এমন অমানবিক আচরণের কথা শুনে তিনি বাকরুদ্ধ। তবে স্থানীয় কিছু লোক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না করে উল্টো মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তাঁর পরিবারকে চাপ দিচ্ছিল বলে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
কলাপাড়া থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তিনি বলেন:”প্রধান অভিযুক্তকে পালিয়ে যেতে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করা এবং টাকা দিয়ে পুরো ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা করায় লালুয়া ইউনিয়ন থেকে আলা মৃধা নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল অপরাধী শহিদুল মুন্সিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।”

