অচল হওয়ার শঙ্কায় আমদানি-রপ্তানি

অচল হওয়ার শঙ্কায় আমদানি-রপ্তানি

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য লোড-আনলোড কাজে নিয়োজিত দুটি প্রভাবশালী শ্রমিক সংগঠন আগামী ১৪ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদারের সাথে সমন্বয়হীনতা ও চুক্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের বৃহত্তম এই স্থলবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও ভারতের সাথে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং-৮৯১) এবং বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং-৯২৫)-এর নেতৃবৃন্দ যৌথভাবে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত আবেদনপত্র ও স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদার গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তাঁদের সংগঠনের সাথে কোনো ধরনের নতুন চুক্তি, কাজের সমন্বয় বা কার্যকর যোগাযোগ রক্ষা করছেন না। শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এই বিষয়ে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সন্তোষজনক সমাধান পাওয়া যায়নি।

শ্রমিক নেতৃবৃন্দের দাবি, ইতিপূর্বে কয়েক দফা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সাধারণ গ্রাহক ও বাণিজ্যের কথা চিন্তা করে এবং বন্দর পরিচালকের আশ্বাসে তা স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও দৃশ্যমান কোনো সমাধান না আসায় তাঁরা পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। ফলে আগামী ১৪ জুন থেকে বন্দরে শ্রমিক দ্বারা পরিচালিত সব ধরনের পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা মনে করছেন, ঘোষিত এই কর্মসূচি শুরু হলে বেনাপোল বন্দরের শেড ও ইয়ার্ডগুলোতে পণ্য জট সৃষ্টি হবে। পণ্য লোড-আনলোড বন্ধ থাকলে আমদানিকৃত কাঁচামাল ও শিল্পপণ্য সময়মতো খালাস করা সম্ভব হবে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায়। এতে সরকার প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।

এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *