‘সোহেল রানা ছাড়া হাসপাতাল যেন কিছুটা অরক্ষিত!’

‘সোহেল রানা ছাড়া হাসপাতাল যেন কিছুটা অরক্ষিত!’

শহিদ জয়:

যশোরের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পে দীর্ঘদিন অত্যন্ত নিষ্ঠা, সততা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন শেষে নতুন কর্মস্থলে বদলি হয়েছেন সর্বজনপ্রিয় পুলিশ কনস্টেবল সোহেল রানা। গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) ছিল হাসপাতাল ক্যাম্পে তাঁর শেষ কর্মদিবস। তাঁর এই বদলি ও বিদায়ের খবরে হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কর্মচারী, রোগী ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে কনস্টেবল সোহেল রানা কেবল একজন সাধারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবেই নন, বরং একজন নির্ভেজাল মানবিক মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। দিন কিংবা রাত—হাসপাতালে আসা অসহায় রোগী, দূর-দূরান্ত থেকে আসা স্বজন, কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে তিনি আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। তাঁর মুখে থাকা সদালাপী আচরণ ও সেবামূলক মনোভাবের কারণে তিনি খুব দ্রুতই হাসপাতালের সবার কাছে অত্যন্ত আপন ও পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

যশোরের স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ কনস্টেবল সোহেল রানার কর্মদক্ষতা, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও মানবিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সাংবাদিকদের মতে, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য কমানো এবং আইনশৃঙ্খলার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সোহেল রানার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।

তাঁর বিদায়লগ্নে হাসপাতালের একজন নিয়মিত যাতায়াতকারী সচেতন নাগরিক আবেগ প্রকাশ করে বলেন, “সোহেল রানা শুধু চাকরি করেননি, মানুষের সেবা করেছেন। তাঁর চলে যাওয়ার পর যশোর জেনারেল হাসপাতাল যেন কিছুটা অভিভাবকহীন ও অরক্ষিত মনে হচ্ছে।” অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে সুযোগ হলে সুশাসন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে প্রশাসন তাঁকে আবারও যশোর জেনারেল হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরিয়ে আনবে।

দীর্ঘ কর্মজীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখা কর্তব্যপরায়ণ কনস্টেবল সোহেল রানার জন্য বিদায়বেলায় সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। নতুন কর্মস্থলেও তিনি তাঁর এই সততা, নিষ্ঠা, গভীর দেশপ্রেম ও মানবিকতার চিরন্তন আলো ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মন জয় করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা যশোরবাসীর। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *