বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি:
“একই আকাশ, একই বাতাস, একই জল তরঙ্গ। তাহলে আমরা মিলেমিশে কাজ করব।” বাংলাদেশে পদাঙ্ক অর্পণের পরপরই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুই দেশের গভীর ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সম্পর্ক টেনে এভাবেই এক নতুন ও অনন্য আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার এইচ.ই. শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী।
আজ শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) সকালে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল ও ভারতের পেট্রাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে সড়কপথে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন সহধর্মিণী শ্রীমতী মৃণাল ত্রিবেদী। সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি বেনাপোল নো-ম্যান্স ল্যান্ডে পৌঁছালে বাংলাদেশ ও ভারতের কাস্টমস, বন্দর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
নতুন হাইকমিশনারের আগমন উপলক্ষে বেনাপোল স্থলবন্দরে এক বিশেষ প্রোটোকল ও স্বাগত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন, ডেপুটি চিফ অব প্রোটোকল আরিফ মোহাম্মদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সরোয়ার মোহাম্মদ শাহরিয়ার খান, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অতল গোস্বামীসহ ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, বন্দর, পুলিশ ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা।
ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে নতুন হাইকমিশনারকে বরণ করতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন কুমার তুলসীদাস বাধে এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি গৌরব আগরওয়ালসহ একটি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল আগে থেকেই যশোর ও বেনাপোলে অবস্থান নিয়ে প্রোটোকল নিশ্চিত করেন।
সীমান্তে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারত দুটি শক্তিশালী ও সুসংহত গণতান্ত্রিক দেশ। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও বাণিজ্যিক আদান-প্রদান বাড়লে তা শুধু এই অঞ্চলেই নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তিতেও রূপ নিতে পারে।” তিনি দুই দেশের যৌথ প্রবৃদ্ধির জন্য যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আধুনিক প্রযুক্তি ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একসাথে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশিদের জন্য বহুকাঙ্ক্ষিত ভারতীয় ‘টুরিস্ট ভিসা’ সহজীকরণ বা পুরোদমে চালুর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আমার বিশেষ বিবেচনায় রয়েছে। আমরা খুব দ্রুতই এমন একটি বাস্তবমুখী উদ্যোগ নেব যাতে দুই দেশের সাধারণ মানুষ এবং অংশীজনরা সন্তুষ্ট হন।” তিনি দুই দেশের পিপল-টু-পিপল কন্টাক্ট (জনগণের মধ্যকার যোগাযোগ) বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুন ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বের পত্রাধিকার গ্রহণ করেন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদী। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে ভারতের স্থায়ী হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের আইনি ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাভ করেন। তিনি সাবেক হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হলেন।
কূটনৈতিক প্রোটোকল অনুযায়ী, নতুন হাইকমিশনারের আগমনকে কেন্দ্র করে বেনাপোল চেকপোস্ট ও যশোর-ঢাকা মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র ও সর্বোচ্চ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বর্ডারের আনুষ্ঠানিকতা ও সংক্ষিপ্ত বরণ পর্ব শেষে শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। ঢাকায় পৌঁছে তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র পেশ করার মাধ্যমে বাংলাদেশে তাঁর কূটনৈতিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন। ছবি সংগৃহীত।


