সেই মাদক সম্রাট মহিদুল্লাহ এবার জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি

সেই মাদক সম্রাট মহিদুল্লাহ এবার জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নে সমাজসেবক ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মুখোশের আড়ালে গড়ে ওঠা এক বিশাল ও ভয়ঙ্কর মাদক সাম্রাজ্যের গডফাদার মহিদুল্লাহ ওরফে মহিদুল ইসলামকে জেলগেটে দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩০ জুন) পুলিশের পক্ষ থেকে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে, দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল এই আদেশ প্রদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের সিনিয়র আইনজীবী মুক্তাদিরুল হক মুক্তা।

এর আগে গত ১৫ জুন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত র‌্যাব-৬, যশোরের একটি চৌকস দল ইছালী ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামে মহিদুল্লাহর বাড়ি ও তার মালিকানাধীন ‘বেস্ট ব্রেড অ্যান্ড বেকারি’ কারখানায় এক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ওই বেকারির জেনারেটর কক্ষ থেকে ২৯ বোতল আমদানিনিষিদ্ধ ভারতীয় ফেনসিডিলের বিকল্প কফ সিরাপ ‘উইনকোরেক্স’ উদ্ধার করা হয় এবং শীর্ষ মাদক কারবারি ও মূল ডিলার মহিদুল্লাহকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত মাদক মামলা দায়ের করা হয়।

অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান কোটিপতি ও দানবীর মহিদুল্লাহর অতীত ছিল অত্যন্ত সাধারণ। একসময় সে এলাকায় রিকশা চালিয়ে অত্যন্ত কষ্টার্জিত উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করত। তার বাবা মোহাম্মদ আব্দুল খালেক ছিলেন এলাকার ঘর জামাই। সেই সূত্রে এনায়েতপুর গ্রামে স্থায়ী হওয়া মহিদুল রাতারাতি বড়লোক হওয়ার অন্ধ নেশায় জড়িয়ে পড়ে নিষিদ্ধ ও ভয়ঙ্কর মাদক ব্যবসায়। যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে অল্প দিনেই মাদক পাচার ও বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও বিঘার পর বিঘা ধানি জমির মালিক বনে যায় সে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এবং নিজের কালো টাকা সাদা করতে সে লোকদেখানো ‘বেস্ট ব্রেড অ্যান্ড বেকারি’ নামের একটি কারখানা ও অফিস গড়ে তোলে। প্রকৃতপক্ষে এই বেকারিটি ছিল তার মাদক সিন্ডিকেটের একটি ‘সেফ হাউস’ বা নিরাপদ আস্তানা মাত্র। বর্তমানে সে নিজে সরাসরি সামনে না থেকে বেতনভুক্ত লোক নিয়োগ করে পুরো যশোর শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদকের বড় বড় চালান সরবরাহ বা মূল ডিলার হিসেবে কাজ করে আসছিল। এই চক্রে তার প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করে তার আপন ভাই মহির ও মহিদুলের স্ত্রী।

গত ১৫ জুন রাতে র‍্যাব যখন এনায়েতপুরের কারখানায় অভিযান চালিয়ে মহিদুল্লাহকে আটক করে, তখন তাকে ছাড়িয়ে নিতে তার ভাই মহির ও সিন্ডিকেটের সদস্যরা চরম ধূর্ততার আশ্রয় নেয়। তারা র‍্যাবের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীকে খেপিয়ে তুলতে এবং একটি বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা বা ‘মব’ তৈরি করতে স্থানীয় একটি মসজিদের মাইক ব্যবহার করে ডাক দেয়। কিন্তু মহিদুলের মাদক কারবারে অতিষ্ঠ ও সচেতন এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে অপরাধীদের সেই চক্রান্ত সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *