মো: মাসুদ রানা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নে সামাজিক আধিপত্য ও রাজনৈতিক দলীয় কোন্দলের জেরে প্রতিপক্ষের বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত ভ্যানচালক একেন মোল্লা (৫৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গতকাল সোমবার (২৯ জুন) রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শৈলকুপা উপজেলার বগুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল আওয়ালের সমর্থকদের সাথে দীর্ঘ দিন ধরে একই ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জামির হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তীব্র বিরোধ চলে আসছিল।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত বৃহস্পতিবার, যখন সাধারণ সম্পাদক জামির হোসেনের সমর্থক এনা শেখকে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। জামিরের লোকজন সন্দেহ করে যে, সভাপতি আব্দুল আওয়ালের সমর্থক মতিয়ার রহমানই পুলিশকে তথ্য দিয়ে এনা শেখকে ধরিয়ে দিয়েছেন। এই ক্ষোভ ও অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবারই মতিয়ারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় জামিরের লোকজন। এর পাল্টা জবাব হিসেবে আওয়ালের সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে জামির হোসেনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
এরই ধারাবাহিক ও চূড়ান্ত জের ধরে গত শনিবার সকালে জামির হোসেনের লোকজন দেশীয় ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সভাপতি আব্দুল আওয়ালের লোকজনের ওপর এবং ঘরবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় বগুড়া গ্রামের অন্তত ৫টি বাড়িঘর ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ সময় সংঘর্ষের মাঝে পড়ে ওই গ্রামের নিরীহ ভ্যানচালক একেন মোল্লা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন।
রক্তাক্ত অবস্থায় একেন মোল্লাকে উদ্ধার করে প্রথমে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার বিকেলে কুষ্টিয়ার চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় নেওয়ার পথেই ফরিদপুর এলাকায় পৌঁছালে একেন মোল্লার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ গ্রামবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্ল্যা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ভ্যানচালকের মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই বগুড়া ইউনিয়ন ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় নতুন করে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি, তবে জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ করছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে ও স্বাভাবিক রয়েছে। নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক আইনি কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।” অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে লিখিত মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও থানা সূত্রে জানা গেছে। ছবি সংগৃহীত।


