স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
ইটের দেয়াল আর উঁচু লাল প্রাচীরের কড়া নজরদারির শুষ্ক ছবিটাই স্বাভাবিকভাবে ভেসে ওঠে কারাগারের নাম শুনলেই। তবে সেই চিরাচরিত চিত্র বদলে গেছে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে। কারাগারের ভেতরে ও বাইরের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে এখন কেবলই সবুজের সমারোহ আর রঙ-বেরঙের নান্দনিক ফুল বাগান। চারদিকে নানা জাতের বৃষ্টিভেজা ফুলেই যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে পুরো কারাপ্রাঙ্গণ।
সংগৃহীত ছবিগুলোতে দেখা যায়, নান্দনিক সারিবদ্ধ পথে ফুটে রয়েছে গোলাপি রেইন লিলি, লাল রঙ্গন, বেগুনী রুয়েলিয়া, নয়নতারা ও সুবাস ছড়ানো গোলাপের মেলা। নিয়ম মেনে পরিচর্যা করায় সুবিন্যস্ত বাগানটি এখন এক দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যা দর্শনার্থী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মন ছুঁয়ে যাচ্ছে।
কারাগারের সার্বিক পরিবেশের এমন আমূল রূপান্তর ও সৌন্দর্যবর্ধনের নেপথ্যে রয়েছে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. আব্দুর রহিম এবং জেলার আবিদ আহমেদের সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ ও নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গি। তাঁদের সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং নিবিড় তদারকিতেই গড়া উঠেছে এই সুদৃশ্য বাগান।
এই সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচিতে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন সর্বপ্রধান কারারক্ষীসহ কর্তব্যরত কারারক্ষীগণ। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রতিদিনের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের ফলেই আজ কারাগারের চারপাশ ফুলে ফুলে ভরপুর হয়ে উঠেছে।
কারাগারের মতো একটি কঠোর ও সংবেদনশীল প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানে এমন পরিবেশবান্ধব ও মানসিক স্বস্তিদায়ক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। স্থানীয় সচেতন মহল ও দর্শনার্থীরা কারা কর্তৃপক্ষের এই প্রশংসনীয় কাজের ভূয়সী প্রশংসা করছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি বাড়াতে এই ধরনের সুদৃশ্য ও নান্দনিক পরিবেশ বিশেষ ভূমিকা রাখবে। সিনিয়র জেল সুপার মো. আব্দুর রহিম ও জেলার আবিদ আহমেদের এই ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। ছবি সংগৃহীত।


