যশোরে মুমূর্ষু শিশু জুবায়েরের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল ‘সমাজ কল্যাণ সংগঠন’

যশোরে মুমূর্ষু শিশু জুবায়েরের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল ‘সমাজ কল্যাণ সংগঠন’

শহিদ জয়:

সমাজে পিছিয়ে পড়া, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পরম বন্ধু হিসেবে পরিচিত যশোরের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন ‘সমাজ কল্যাণ সংগঠন’ এবার এক মুমূর্ষু ও তীব্র অসুস্থ শিশুর উন্নত চিকিৎসার জন্য মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়া ওই শিশুটির জীবন বাঁচাতে সংগঠনের উদ্যোগে দীর্ঘ মেয়াদে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ আর্থিক অনুদানের অর্থ আজ সরাসরি শিশুটির অসহায় পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

আজ ২০ জুন ২০২৬ শনিবার দুপুরে যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। ঝুমঝুমপুর এলাকার বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসেনের গুরুতর অসুস্থ ছোট ছেলে মো. জুবায়ের হোসেনের চিকিৎসার খরচ জোগাতে এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। পুরো কার্যক্রমটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল-আমিন ইসলাম সামির সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা, পরিকল্পনা ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, শিশু জুবায়েরের চিকিৎসার আকাশচুম্বী ব্যয় বহন করা তার দরিদ্র বাবার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না। এই খবর পেয়ে সমাজ কল্যাণ সংগঠনের একঝাঁক তরুণ ও উদ্যমী সদস্য ও নেতৃবৃন্দ দীর্ঘদিন ধরে যশোর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জীবন বাঁচানোর উদ্দেশ্যে গণসচেতনতামূলক প্রচারণা এবং অর্থ সংগ্রহ (ফান্ড রাইজিং) কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এই মানবিক ডাকে সাড়া দিয়ে ঐতিহ্যবাহী সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ (এমএম কলেজ), হামিদপুর আল-হেরা ডিগ্রি কলেজ এবং ড্রিম টাচ একাডেমির সাধারণ শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসেন। এছাড়া ঝুমঝুমপুর, হামিদপুর, নীলগঞ্জ ও সীতারামপুর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই তহবিলে তাদের সাধ্যমতো অনুদান প্রদান করেন।

অর্থ সংগ্রহের এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঝুমঝুমপুর মুহাম্মাদিয়া হাফেজিয়া বালক-বালিকা কওমি মাদ্রাসা, বিসিক জামে মসজিদ, সীতারামপুর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ এবং শহরের ব্যস্ততম মনিহার জামে মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে বিশেষ অর্থ সংগ্রহ অভিযান পরিচালিত হয়। সংগঠনের সদস্যরা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঝুমঝুমপুর বটতলা থেকে শুরু করে হামিদপুর বাজার পর্যন্ত ব্যস্ততম মহাসড়ক এলাকায় পথচারী ও যানবাহনে সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালান। পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের দেওয়া সেই ভালোবাসার অনুদান এবং সংগঠনের নিজস্ব জরুরি তহবিলের অর্থ একত্রিত করে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে মো. জুবায়ের হোসেনের পরিবারের হাতে চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

সহায়তা প্রদান শেষে সমাজ কল্যাণ সংগঠনের দূরদর্শী সভাপতি আল-আমিন ইসলাম সামি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “একজন নিষ্পাপ ও অসুস্থ শিশুর চিকিৎসার জন্য কাঠখড় পুড়িয়ে সামান্য সহযোগিতা করতে পেরে আমাদের পুরো টিম আজ অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আমাদের সংগঠনের সকল সদস্য, দাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম ও আন্তরিক সহযোগিতার ফলেই আজ এই কঠিন উদ্যোগটি সফলতার মুখ দেখেছে। আমরা শুধু এখানেই থেমে থাকতে চাই না, ভবিষ্যতেও যেকোনো অসহায়, দরিদ্র ও চরম বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে এভাবেই ঢাল হয়ে দাঁড়াতে চাই।” তিনি সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে আরও বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য ও স্বপ্ন হলো— সমাজ কল্যাণ সংগঠনের এই মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম খুব শীঘ্রই সারা দেশে বিস্তৃত করা এবং যশোরের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও প্রত্যন্ত জেলার দরিদ্র মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করা।”

আজকের এই অর্থ হস্তান্তর ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজ কল্যাণ সংগঠনের সম্মানিত উপদেষ্টা তানজীব আহমেদ, সহ-সভাপতি ইভেল হাসান, সাধারণ সম্পাদক সামী হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জুবায়ের রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ফাহিম ও  সম্পাদক অঞ্জন কুমার আইচ। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন প্রচার সম্পাদক মো. সোহাগ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ফারিহ বিল্লাহ তাকি, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক এম. এম. হাসনাতুল ইসলাম রাতুল, সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম হিমেল এবং সহ-সদস্য সচিব তাসনিমুল হাসানসহ সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের সক্রিয় সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এক অবুজ শিশুর জীবন বাঁচাতে তরুণদের এমন ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা যশোর জেলাজুড়ে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত ও সমাদৃত হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *