স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
‘করবো মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করবো ১২ মাস’- এই যুগোপযোগী ও উৎসবমুখর প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে যশোরে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ফল মেলা-২০২৬। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামারবাড়ি) চত্বরে এক বর্ণাঢ্য র্যালি, ফিতা কাটা এবং আকাশে রঙ-বেরঙের বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে এই ঐতিহ্যবাহী মেলার আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। মেলাকে কেন্দ্র করে উদ্বোধনের প্রথম দিনেই খামারবাড়ি চত্বরে ফল চাষি, নার্সারি মালিক ও বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।
মেলা প্রাঙ্গণের উদ্বোধনী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, “বাংলাদেশ এখন ফল উৎপাদনে বিশ্বে অনন্য নজির স্থাপন করেছে। তবে কেবল ফল উৎপাদন বাড়ালেই চলবে না, আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শতভাগ নিরাপদ এবং বিষমুক্ত ফল উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। ফল চাষে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ফরমালিনের ব্যবহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে তা বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে রপ্তানির দিকে আমাদের এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।”
যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম (পিপিএম) এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, হর্টিকালচার সেন্টার ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সফল ফল চাষিরা।
বক্তারা গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং পুষ্টির চাহিদা মেটাতে বাড়ির আঙিনায় ও পতিত জমিতে বেশি করে দেশীয় ও বারোমাসি ফলদ বৃক্ষ রোপণের জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই মেলায় স্থানীয় ও উন্নত জাতের হরেক রকম পুষ্টিকর ফল এবং বিভিন্ন ফলদ গাছের চারা প্রদর্শন ও সুলভ মূল্যে বিক্রির জন্য নান্দনিক স্টল সাজানো হয়েছে। স্টলগুলোতে ল্যাংড়া, ফজলি, হিমসাগরসহ হরেক জাতের সুমিষ্ট আম, বিশাল আকৃতির কাঁঠাল, লিচু, লটকন, ড্রাগন ফল, পেয়ারা, জাম্বুরা এবং বিভিন্ন বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ফল প্রদর্শন করা হচ্ছে।
পাশাপাশি ছাদবাগানিদের জন্য হরেক রকমের হাইব্রিড ও বারোমাসি ফলের কলম চারা বিক্রি করছে স্থানীয় নামিদামি নার্সারিগুলো। আগামী ২৭ জুন (শনিবার) পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই মেলা সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে। মেলা চত্বরের এই মনোরম পরিবেশ আজ শহরবাসীর ক্লান্তি দূর করে এক টুকরো সবুজ উৎসবের আমেজ এনে দিয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

