বেনাপোল গেটে পৌনে ৪ লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ

বেনাপোল গেটে পৌনে ৪ লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় অবৈধ পণ্যের অনুপ্রবেশ রোধ এবং শক্তিশালী চোরাচালানি সিন্ডিকেটের রুটগুলো চিরতরে বন্ধ করার লক্ষ্যে কঠোর জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে এক সফল ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) আওতাধীন চৌকস জওয়ানরা বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকার সুনির্দিষ্ট সীমান্ত পয়েন্টে চোরাচালান বিরোধী সাড়াসি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিক্স সামগ্রী, ঔষধ ও চকলেট হাতেনাতে জব্দ করতে সক্ষম হয়েছেন। আজ সোমবার (২৫ মে) বেনাপোল বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) এবং বেনাপোল আইসিপি (ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট) সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির বিশেষ আভিযানিক দল এই গৌরবময় সাফল্য অর্জন করে। আসন্ন ঈদুল আজহা তথা কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে কাস্টমস ও সীমান্ত করিডোর ব্যবহার করে চোরাকারবারিদের এমন বড় ধরনের শুল্ক ফাঁকি ও অবৈধ বাণিজ্যের তত্পরতা রুখতে বিজিবির এই তাৎক্ষণিক ঝটিকা অ্যাকশন স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল ও সচেতন নাগরিকদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বিজিবি যশোর ব্যাটালিয়নের দাপ্তরিক ও আভিযানিক নথির বিবরণ অনুযায়ী, বেনাপোল সীমান্তের বিভিন্ন দুর্গম রুট দিয়ে চোরাচালানিরা এই মালামালগুলো বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করছিল। বিজিবির বিশেষ টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে মালামাল ফেলে পাচারকারীরা সুকৌশলে গা ঢাকা দেওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাস্থলে চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে বিজিবি জওয়ানরা উন্নত মানের ১৮টি ভারতীয় শাড়ি, ২০টি বিভিন্ন সুস্বাদু প্রকার চকলেট, ০৪ পাতা জীবনরক্ষাকারী ঔষধ, ১৪ প্যাকেট ভারতীয় বিড়ি এবং ৮৪৭টি নামী দামী ব্র্যান্ডের ভারতীয় কসমেটিক্স (প্রসাধন) সামগ্রী পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সিজার লিস্টের অন্তর্ভুক্ত করেন। বিজিবির দাপ্তরিক হিসাব ও বাজারদর অনুযায়ী, জব্দকৃত এই বিশাল চোরাচালানি চালানের মোট আনুমানিক সরকারি মূল্য ৩,৯৪,৫০০/- (তিন লক্ষ চুরানব্বই হাজার পাঁচশত) টাকা বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সফল ও এই গৌরবময় সীমান্ত অভিযানের বিস্তারিত তথ্য ও আইনি অগ্রগতির বিষয়ে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে বিস্তারিত নিশ্চিত করেছেন যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অধিনায়ক ও পরিচালক লেঃ কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি। তিনি সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় অর্থনীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে দীর্ঘদিন যাবত মাদকদ্রব্য, অবৈধ চোরাচালানি মালামাল এবং মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্যদের হাতেনাতে আটকের নিমিত্তে সীমান্ত এলাকা জুড়ে বিজিবির বিশেষ মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী কঠোর গোয়েন্দা তৎপরতা ও আভিযানিক কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত রয়েছে। এরই সুনির্দিষ্ট ধারাবাহিকতায় যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী প্রতিটি পয়েন্টে বিজিবির নিয়মিত ও ঝটিকা মোবাইল পেট্রোল টিম সফলভাবে অভিযান পরিচালনা করে প্রতিনিয়ত কোটি কোটি টাকার মাদকদ্রব্য এবং বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি মালামাল জব্দ করতে সক্ষম হচ্ছে।

যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি আরও জোর দিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং চোরাচালান ও মাদকের এই কালো সাম্রাজ্য সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলতে সীমান্তে বিজিবির এ ধরনের কঠোর ও আপসহীন আভিযানিক কার্যক্রম সবসময়ই জিরো টলারেন্স ভিত্তিতে বলবৎ থাকবে। জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধন, শাড়ি ও অন্যান্য মালামাল প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অনতিবিলম্বে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের গুদামে জমা দেওয়ার দাপ্তরিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্তভাবে চলমান রয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা চোরাকারবারিদের চিহ্নিত করতে বিজিবির বিশেষ উইং কাজ করছে বলে বিজিবি সদর দপ্তর থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *