বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া :
পাঠদানের বেঞ্চ জোড়া দিয়ে বানানো হয়েছে খাট। কক্ষজুড়ে টানানো দড়িতে ঝুলছে জামা কাপড়। এক পাশে রয়েছে গ্যাস থেকে শুরু করে রান্না করার সকল সরঞ্জাম, চলছে রান্নাবান্নাও। পুরোপুরি বসতঘরে রুপ দেওয়া এ কক্ষটি দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি পাঠদানের কক্ষ ৷ কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটায় ঠিক এভাবে ১৩৯ নং ফাসিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেনিকক্ষ দখল করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শিউলিকা পারভিন ও তার স্বামী ওই বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব সিদ্দিকী।
পাঠদান চলাকালীন সময় ওই কক্ষে করা হয় রান্নাবান্না। এতে খাবারের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে শ্রেণীকক্ষে। ফলে ব্যহত হচ্ছে পুরো বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের পাঠদান কার্যক্রম। সাবেক ওই প্রধান শিক্ষকের ভয়ে কোন অভিভাবক বা শিক্ষক ক্যামেরার সামনে কথা বলতে না চাইলেও তারা ওই কক্ষটিতে পাঠদানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া সচেতন মহল শিক্ষা বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় একাধিক অভিভাবকরা নাম না বলার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ছেলেমেয়েরা অভিযোগ করে আসছে। যখন ক্লাস শুরু হয় তখন রান্নাবান্নার কাজ চলতে থাকে। এর গন্ধে ক্লাসে থাকতে পারেনা। গ্যাসের সিলিন্ডার থাকায় সব সময় আতঙ্কে থাকে। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাই বিদ্যালয়ের এই সমস্যাটা দ্রুত সমাধান করে। এবং ছেলে মেয়েদের পাঠদানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনে।
ফাসিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শিউলিকা পারভিন বলেন, আমাদের থাকার বাসা বাড়ি নেই এবং বিদ্যালয়ের পাঠদানে ওই কক্ষটি কাজে না আসায় এখানে বসবাস করছি। এছাড়া এই স্কুল থেকে অন্য স্থানান্তর হওয়ার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। অনুমোদন পেলেই অন্য স্কুলে চলে যাবো।
মঙ্গলসুখ মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস এম আবুল হোসেন বলেন, আমাদের সার্ভিস রুলস অনুযায়ী বিদ্যালয়ের কোন কক্ষ বরাদ্দ অথবা আবাসিক ব্যবস্থাপনা নেই। যারা ওখানে থাকেন শিশুদের শিক্ষা স্বাস্থ্যের স্বার্থে বিদ্যালয় থেকে অতি দ্রুত চলে যাওয়া উচিত।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিদা পারভীন বলেন, সরকারি কোন বিদ্যালয় পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করার নিয়ম নেই। আমি ওই স্কুলে দেখতে যাবো। ঘটনা সত্যতা পেলে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন ,বিষয়টি তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

