বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া :
কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জীবন মাঝি নামের এক জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি ইয়েলোফিন টুনা (Yellowfin Tuna) মাছ। স্থানীয় জেলেদের কাছে এটি ‘হলুদ পাখনা টুনা’ নামে পরিচিত। দক্ষিণ উপকূলে সচরাচর এই প্রজাতির মাছের দেখা মেলে না।
শুক্রবার (৩১ জুলাই ২০২৬) সকালে মাছটি বিক্রির উদ্দেশ্যে আলিপুর মৎস্য বন্দরের ‘মেসার্স মনি ফিশ’ আড়তে নিয়ে আসা হয়। বিরল ও বিশাল আকারের টুনা মাছটি দেখতে একনজর স্থানীয় বাসিন্দা, মৎস্য ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের উৎসুক ভিড় জমে যায়।
আড়ত সূত্রে জানা গেছে, মাছটির ওজন ২৮ কেজি ৯০০ গ্রাম (প্রায় ২৯ কেজি)। দরদামের পর প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ টাকা হিসাবে মাছটি মোট ৪০ হাজার ৪৬০ টাকায় কিনে নেন স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন। ব্যবসায়ী ইসমাইল জানান, উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের সুস্বাদু ও আন্তর্জাতিক মানের দামী মাছ কমই দেখা যায়। ভালো দামে বিক্রির লক্ষ্যে তিনি এটি ঢাকার বাজারে পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন।
এর আগে গত পরশু বঙ্গোপসাগরের পায়রা বন্দর সংলগ্ন এলাকায় ‘এফবি সজীব’ ট্রলারের জেলে জীবন মাঝির জালে মাছটি ধরা পড়ে। হঠাৎ এমন দামী মাছ জালে ওঠায় উচ্ছ্বসিত ট্রলারের জেলেরা।
ওয়ার্ল্ডফিশ-এর ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, ইয়েলোফিন টুনা মূলত গভীর সমুদ্র ও সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড এলাকার দ্রুতগতির পরিযায়ী মাছ। বিশ্ববাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, বিশেষ করে সাশিমি ও সুশির কাঁচামাল হিসেবে। পাশাপাশি এটি ওমেগা-৩ ও প্রোটিনে ভরপুর।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ইয়েলোফিন টুনা সমুদ্রের অন্যতম দ্রুতগামী মাছ, যা ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ কিলোমিটার বেগে সাঁতার কাটতে পারে। পূর্ণবয়স্ক টুনা ২০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। গভীর জলের মাছ হলেও খাদ্য ও অনুকূল আবহাওয়ার খোঁজে কখনো কখনো এটি উপকূলে চলে আসে। ছবি-বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু।

