প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের তদন্তে গিয়ে বাধা ও হট্টগোল!

প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের তদন্তে গিয়ে বাধা ও হট্টগোল!

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী):

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও একাধিক অনিয়মের অভিযোগে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চলা সরকারি তদন্তে অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের অশালীন আচরণ ও মারমুখী আচরণের কারণে শেষ পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত রেখে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

গত রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের এস.কে.জে.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ও দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক জুনায়েত হোসেন খান বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রধান শিক্ষকের পদ বাগিয়ে নেন। তাঁর এ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে ইতিমধ্যে কলাপাড়া আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়েও পরবর্তীতে হাজিরা খাতায় বকেয়া স্বাক্ষর করেন, কোনোদিন স্বহস্তে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেননি এবং ব্যক্তিগত কাজে স্কুলের তহবিল ব্যবহার করেছেন। এ ছাড়া পাঠদানের চেয়ে স্থানীয় রাজনীতি ও সালিশ বাণিজ্যে সময় দেওয়া, সহকারী শিক্ষকদের শোকজের ভয় দেখানো এবং অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্কশ আচরণের অগণিত অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এসব অনিয়ম প্রতিরোধে সম্প্রতি অভিভাবক ও স্থানীয় অধিবাসীরা পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নির্ধারিত তদন্তকারী কর্মকর্তা (উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা) বিদ্যালয়ে পৌঁছালে এক অপ্রীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সমাজসেবক আলাউদ্দিন তালুকদার, সাবেক অভিভাবক সদস্য সাহাবুদ্দিন হাওলাদার, জহিরুল ইসলাম, শহিদ তালুকদার ও রবিউল অভিযোগ করে জানান— তদন্ত শুরু হওয়ামাত্রই প্রধান শিক্ষকের ইশারায় তাঁর আশ্রিত কয়েকজন বহিরাগত লোক (রিগান চৌকিদার, শহিদুল চৌকিদার ও অহিদুল চৌকিদার) হট্টগোল শুরু করে এবং তদন্তকারীদের ও অভিযোগকারীদের সঙ্গে অত্যন্ত অশালীন ও অপমানজনক আচরণ করে। তাদের তোপের মুখে তদন্ত কর্মকর্তা শেষ পর্যন্ত কাজ বন্ধ রেখেই চলে যেতে বাধ্য হন।

বিদ্যালয়ের একাধিক সহকারী শিক্ষকও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন বহিরাগত এসে অভিযোগকারীদের সাথে হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জুনায়েত হোসেন খান তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, “তদন্ত চলাকালে সমবায় কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। যারা সেখানে তর্ক-বিতর্ক করেছেন, তাঁদের আমি চিনি না।”

অন্যদিকে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামান জানান, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং অনিয়মের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *