প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার প্রধান দুই খুনি যশোর র‍্যাবের খাঁচায়

প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার প্রধান দুই খুনি যশোর র‍্যাবের খাঁচায়

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

নড়াইলের চাঞ্চল্যকর ও বর্বরোচিত মানসিক প্রতিবন্ধী আনোয়ার হোসেন (৩২) হত্যা মামলার এজাহার নামীয় প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৬। দেশের অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলার অতন্দ্র প্রহরী র‍্যাব-৬-এর যশোর ও ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের দুটি পৃথক আভিযানিক দল গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) যশোর ও ফরিদপুরে একযোগে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে এই দুই পাষণ্ড খুনিকে বাগে আনে।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো— মামলার ১ নম্বর প্রধান আসামি প্রসেনজিৎ (২৫), সে নড়াইল জেলার উত্তর খলিশাখালী গ্রামের নিভাসের ছেলে এবং ৩ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি অপূর্ব (২৪), সে একই গ্রামের অনাধির ছেলে।`

র‍্যাব ফোর্সেসের সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা এলাকা ছেড়ে সুকৌশলে বিভিন্ন জেলায় আত্মগোপন করে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব-৬ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।

এরই ধারাবাহিকতায়, গতকাল ৩ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৬, সিপিসি-৩ যশোর ক্যাম্পের একটি চৌকস দল যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানাধীন মিশ্রী দেয়াড়া এলাকায় আকস্মিক অভিযান চালায়। সেখান থেকে মামলার ৩ নম্বর পলাতক আসামি অপূর্বকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

এর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে, রাত ১০টার সময় র‍্যাব-৬-এর সিপিসি সদর কোম্পানি (ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্প) অপর একটি সফল অভিযান পরিচালনা করে। ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানাধীন জয়পাশা এলাকায় চালানো এই অভিযানে মামলার ১ নম্বর প্রধান পলাতক আসামি প্রসেনজিৎকে বাগে আনতে সক্ষম হয় র‍্যাব।

মামলার এজাহার ও র‍্যাবের বিবরণী থেকে জানা যায়, নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার ভিকটিম আনোয়ার হোসেন একজন জন্মগত মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। এই প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনি প্রায়ই নিজের খেয়ালে বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াতেন। গত ২৫ জুন (২০২৬) রাত আনুমানিক ৩টার সময় উত্তর খলিশাখালী গ্রামে ১ নম্বর আসামি প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে আনোয়ারকে দেখতে পায় আসামিরা।

সেখানে প্রসেনজিৎ ও অপূর্বসহ মামলার অন্যান্য আসামিরা ওই নিরীহ প্রতিবন্ধী যুবককে নির্দয়ভাবে ‘চোর’ অপবাদ দেয়। এরপর প্রসেনজিতের বাড়ির সামনের একটি গাছের সাথে তাঁকে শক্ত করে বেঁধে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে বেধড়ক মারধর করে। স্থানীয় কিছু লোক মুমূর্ষু অবস্থায় আনোয়ারকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দীর্ঘ লড়াই শেষে গত ২ জুলাই সকাল ৭টার সময় আনোয়ার হোসেন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই বর্বরোচিত ঘটনায় নিহতের ভাই গোলাম নবী হোসেন বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

র‍্যাবের ভূমিকার প্রশংসা ও পরবর্তী পদক্ষেপ:

মানসিক প্রতিবন্ধী আনোয়ার হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাটি নড়াইল ও যশোর অঞ্চলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। ঘটনার পরপরই আসামিদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় এনে র‍্যাব-৬ সর্বসাধারণের মাঝে অনন্য প্রশংসায় কুঁড়িয়েছে।

র‍্যাব-৬-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত খুনি প্রসেনজিৎ ও অপূর্বকে নড়াইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের নির্মূলে র‍্যাবের এই কঠোর জিরো টলারেন্স অভিযান অব্যাহত থাকবে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *