স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলা ও অভয়নগরে পৃথক দুটি স্থানে রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। মাদক কেনাবেচায় বাধা প্রদান এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সংঘটিত এই পৃথক হামলায় দুইজন গুরুতর জখম হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ক্ষিতিবদিয়া বাঁশতলা মোড়ে প্রথম হামলার ঘটনাটি ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত যুবকের নাম বাচ্চু বিশ্বাস (২৮)।
হাসপাতালের শয্যায় চিকিৎসাধীন বাচ্চু বিশ্বাস অভিযোগ করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষিতিবদিয়া এলাকায় একটি চক্র সুকৌশলে মাদক কেনাবেচা করে আসছিল। তিনি ও স্থানীয় যুবকেরা এই মাদক ব্যবসার তীব্র প্রতিবাদ ও বাধা প্রদান করায় মাদক কারবারিরা তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। এর জের ধরে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ক্ষিতিবদিয়া বাঁশতলা মোড়ে ওত পেতে থাকা চিহ্নিত মাদক কারবারি রাসেল, রায়হান, আল আমিন ও মফিজুলসহ ৪-৫ জন সন্ত্রাসী ধারালো চাইনিজ কুড়াল নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে কাঁধ ও গলার ওপর এলোপাতাড়ি কোপ মারলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন চিৎকার শুনে এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয় বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, একই দিন রাত ১০টার দিকে অভয়নগর থানার নওয়াপাড়া পৌরসভার ভাঙাগেট সিডল মিলের সামনে অপর একটি হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে মনিরুল ইসলাম মনা (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা।
অভয়নগর থানা পুলিশ জানায়, স্থানীয় প্রতিপক্ষদের সাথে মনিরুল ইসলামের পূর্ব শত্রুতা চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ভাঙাগেট সিডল মিলের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, পরান গাজী, মিকাইল ও সাগরসহ একদল সন্ত্রাসী দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীরা অত্যন্ত নির্মমভাবে তাঁর দুই পায়ে উপর্যুপরি আঘাত করে জখম করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় মনিরুলকে উদ্ধার করে প্রথমে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর ক্ষতবিক্ষত দুই পায়ের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন।
পৃথক দুটি ঘটনার পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই দুই বর্বরোচিত হামলার সাথে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট থানা সূত্র নিশ্চিত করেছে। ছবি সংগৃহীত।


