স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের অন্যতম সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘শিল্পাঙ্গন যশোর’-এর ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী গুণীজন সম্মাননা, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাট্য উৎসবের শুভ সূচনা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৫টায় যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে উৎসবের প্রথম দিনের অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হয়। ৩ ও ৪ জুলাই (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ) দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান, দলীয় সঙ্গীত, নৃত্য পরিবেশনা এবং নাটক মঞ্চায়নের নান্দনিক আয়োজন রাখা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন পর্ষদ-২০২৬-এর আহ্বায়ক হাসান হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন— বিশিষ্ট প্রবীণ সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম-উদ-দ্দৌলা এবং যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক এ জেড এম সালেকসহ স্থানীয় সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় সঞ্চালনা করেন প্রফেসর আব্দুল বারী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, “অপসংস্কৃতি ও মাদকের করাল গ্রাস থেকে তরুণ সমাজকে দূরে রাখতে শিল্পাঙ্গন যশোরের মতো প্রগতিশীল সংগঠনের ভূমিকা অপরিসীম। বিগত ৫ বছর ধরে তারা যশোরের সাংস্কৃতিক ধারাকে যেভাবে উজ্জীবিত রেখেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
শিল্পাঙ্গন যশোরের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রথম দিনের আয়োজনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। সচরাচর পর্দার সামনে থাকা শিল্পীরা মূল্যায়িত হলেও, এবার বাদ্যযন্ত্র তৈরির পেছনে থাকা দুই প্রবীণ নেপথ্য কারিগরকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তারা হলেন— যশোরের বিশিষ্ট প্রবীণ হারমোনিয়াম কারিগর রতন বিশ্বাস এবং প্রখ্যাত তবলা কারিগর সুধাংশু শেখর দাস। আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ তাঁদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও উত্তরীয় পরিয়ে দেন।
সম্মাননা প্রদান পর্ব শেষে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সন্তু বিশ্বাসের নির্দেশনায় ও পরিচালনায় অতিথি বরণ ও চমৎকার দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন সংগঠনের শিল্পীরা। এরপর মোস্তাফিজুর রহমান ও রিকি খানের নান্দনিক কোরিওগ্রাফি ও পরিচালনায় মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশন করেন শিশু-কিশোর ও তরুণ নৃত্যশিল্পীরা, যা উপস্থিত দর্শকদের দারুণভাবে মোহিত করে।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশু-কিশোরদের সুপ্ত সৃজনশীলতার বিকাশ, সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা ও মুক্তবুদ্ধির আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে এগিয়ে নিতে শিল্পাঙ্গন যশোর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুই দিনব্যাপী এই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন যশোরের ঝিমিয়ে পড়া সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন করে এক পলিমাটি ও বিপুল প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করবে বলে তারা দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন। আজ শনিবার উৎসবের সমাপনী দিনেও রয়েছে নাটকসহ চোখ ধাঁধানো পরিবেশনা। ছবি সংগৃহীত।


