পাগলাদহে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ৫ম শ্রেণীর মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ!

পাগলাদহে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ৫ম শ্রেণীর মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ!

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের পাগলাদহ গ্রামে এক অবুঝ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মাদ্রাসাছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাস্তা থেকে সুকৌশলে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ ছাত্রীর আপন চাচা শাহিন হোসেন বাদী হয়ে স্থানীয় কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত ২৩ জুন মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো ওই ছাত্রীর কোনো হদিস না মেলায় পুরো পরিবার চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পাগলাদহ গ্রামের বাসিন্দা শামিম হোসেনের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে স্থানীয় একটি মহিলা মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির নিয়মিত ছাত্রী। অভিযোগ অনুযায়ী, একই এলাকার বখাটে জিল্লু মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে ওই অবুঝ শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসায় যাওয়া-আসার পথে কুপ্রস্তাব ও ইভটিজিং করে আসছিল। বিভিন্নভাবে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়ে জিল্লু মোল্লা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে মেয়েটিকে নানামুখী প্রলোভন দেখানোর পাশাপাশি কথা না শুনলে জোরপূর্বক রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সরাসরি হুমকিও প্রদান করে সে। বিষয়টি নিয়ে পরিবারিকভাবে সতর্ক থাকলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৩ জুন মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ওই শিক্ষার্থী পারিবারিক প্রয়োজনীয় কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বাড়ির পাশের একটি স্থানীয় মুদি দোকানে যাওয়ার জন্য বের হয়। মেয়েটি ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির সামনের পাকা রাস্তার ওপর পৌঁছামাত্রই ওত পেতে থাকা লম্পট জিল্লু মোল্লা ও তার অজ্ঞাতনামা কয়েকজন সহযোগী এসে তার মুখ চেপে ধরে। পরে জোরপূর্বক একটি অজ্ঞাত যানে তুলে নিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। এরপর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মেয়েটি বাড়ি ফিরে না আসায় চারদিকে শোরগোল পড়ে যায়।

ভুক্তভোগী অসহায় পরিবারের দাবি, অপহরণের ঘটনাটি নিশ্চিত হওয়ার পর পরই তারা অভিযুক্ত জিল্লু মোল্লার বাবা-মায়ের ডেরায় গিয়ে হাজির হন। এ সময় জিল্লুর পরিবার ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে কৌশলে মেয়েটিকে খুব দ্রুতই অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার মৌখিক আশ্বাস প্রদান করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তারা মেয়েটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়নি, বরং সময় ক্ষেপণ করে জিল্লুকে আত্মগোপনে যেতে সাহায্য করেছে। বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের তীব্র আশঙ্কা, জিল্লু মোল্লা ও তার সহযোগীরা মেয়েটিকে কোনো গোপন আস্তানায় জিম্মি করে রেখেছে এবং তার বড় ধরনের কোনো শারীরিক বা মানসিক ক্ষতিসাধন করতে পারে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার পর থেকে আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে দিনভর খোঁজাখুঁজি ও উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও মেয়েটির কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে নিরুপায় হয়ে পারিবারিকভাবে চূড়ান্ত আলোচনা করে কোতোয়ালি মডেল থানায় এই লিখিত অভিযোগটি দায়ের করা হয়। প্রতীকী-ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *