পাউবোর বেরিবাঁধ নির্মাণে হরিলুট !

পাউবোর বেরিবাঁধ নির্মাণে হরিলুট !

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু,কলাপাড়া :

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের বাইনতলা গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে বাস্তবায়নাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ বেরিবাঁধ কাম রাস্তা পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনের জনদাবির মুখে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হলেও, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম স্বেচ্ছাচারিতা এবং পাউবোর তদারকির অভাবে কোটি টাকার এই জনবান্ধব উদ্যোগটি এখন ভেস্তে যেতে বসেছে।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ১১ লাখ ৭০ হাজার ৯৬৩ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২৭০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই বেরিবাঁধ রাস্তা পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের জুন মাসের (২০২৬) মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ মানসম্মতভাবে শেষ করার আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু মেয়াদ শেষের দ্বারপ্রান্তে এসেও কাজের গুণগত মান নিয়ে খোদ স্থানীয় সুবিধাভোগীদের মধ্যেই চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জনসাধারণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, বাঁধের উচ্চতা ও প্রশস্ততা বাড়াতে সরকারি প্রকল্পে যে পরিমাণ মাটি ব্যবহারের কথা ছিল, বাস্তবে তার ধারেকাছেও মাটি দেওয়া হয়নি। এছাড়া নির্মাণকাজে পাউবোর কোনো প্রকৌশলী বা কর্মকর্তার দৃশ্যমান তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছামতো যেনতেন প্রকারে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছে।

একাধিক এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাস্তা নির্মাণের জন্য সরকারি খাস জমিতে পর্যাপ্ত মাটি না থাকায় এলাকার উন্নয়ন ভেবে অনেকেই নিজেদের রেকর্ডীয় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকে বিনামূল্যে মাটি দিয়েছেন। এমনকি কিছু কিছু স্থানে জনসাধারণের চলাচলের মূল সাধারণ পথ থেকেও মাটি কেটে নেওয়ায় সেই পথগুলো এখন সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী ও মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাঁধ চওড়া করার নামে বেশ কিছু গরিব মানুষের বসতবাড়ি ও দোকানপাট ভেঙে ফেলা হয়েছে। এতো ত্যাগের পরেও রাস্তার কাজ মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়নি এবং নামমাত্র মাটি ফেলে পুরো সরকারি টাকা লুটপাটের পাঁয়তারা চলছে বলে তাদের দাবি।

এসব গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানার জন্য তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ আলম কাজের গাফিলতির কথা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, “বাইনতলা গ্রামের রাস্তা ও বেরিবাঁধ নির্মাণে অনিয়মের যে অভিযোগ উঠেছে, তা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখছি। প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সিডিউল ও মান অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা সরেজমিনে কারিগরি টিম পাঠিয়ে যাচাই করা হবে।”

তিনি ঠিকাদারদের হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যতটুকু কাজ নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন করেছে, মাঠ কর্মকর্তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে ঠিক ততটুকুর বিলই আংশিক পরিশোধ করা হবে। প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ সিডিউল অনুযায়ী এবং সন্তোষজনকভাবে শেষ না হলে কোনো অবস্থাতেই ঠিকাদারকে চূড়ান্ত (ফাইনাল) বিল প্রদান করা হবে না।” ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *