স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় চালকের চরম অবহেলা ও বেপরোয়া গতিতে বাস নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অবশেষে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। এই দুর্ঘটনাকেন্দ্রিক মামলায় বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার (৬ জুন ২০২৬) দুপুরে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে রাজবাড়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার রাতে দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) আবুজার গিফারী বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলায় গ্রেফতারকৃত ৩ জনসহ ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ পরিবহন পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— বাসচালক ঝন্টু আলী (৪৮), সুপারভাইজার আজমল হোসেন (৩৮) এবং চালকের সহকারী শাকিব হোসেন (২২)।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে মেহেরপুরের গাংনি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ঘাটে পৌঁছায়। এ সময় ঘাটের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত নৌপুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসি’র কর্মকর্তারা ফেরিতে ওঠার পূর্বে বাসের সমস্ত যাত্রীদের নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেন। কর্তৃপক্ষের কড়া নির্দেশনায় বাসে থাকা প্রায় ৩৭ থেকে ৪০ জন যাত্রী নিরাপদে নেমে যান। যাত্রীরা নামার পরপরই বাসের প্রধান চালক ঝন্টু আলী বাসটি স্টার্ট দিয়ে অত্যন্ত বেপরোয়া, দ্রুত ও অবহেলামূলকভাবে চালাতে শুরু করেন।
ঘটনার বিবরণীতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাসটির জন্য নির্ধারিত ফেরি ছিল ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’। কিন্তু চালক ঝন্টু আলী সেই ফেরিতে না উঠে সম্পূর্ণ নিয়ম ভেঙে প্রচণ্ড গতিতে পন্টুন পার হয়ে ‘করবী অক্সফ্যাম’ নামের অন্য একটি ফেরিতে বাসটি তুলে দেন। গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বাসটি ফেরির শেষ প্রান্তের র্যাম্পে (যানবাহন ওঠার পাটাতন) সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার তীব্রতায় র্যাম্পের ভারী শিকল ও সিটকিনি মুহূর্তেই ছিঁড়ে যায় এবং আস্ত বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর পদ্মায় তলিয়ে যায়। অল্পের জন্য যাত্রীরা প্রাণে বাঁচলেও এই ঘটনায় ফেরির ব্যাপক ক্ষতিসাধন এবং যাত্রীদের রেখে যাওয়া মালামালসহ প্রায় ৩ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়ালন্দঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নৌপুলিশের দায়ের করা মামলায় বাসের মূল চালকসহ তিন স্টাফকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম জানান, এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে আজ শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে পরিবহন কর্তৃপক্ষের আর কার কার অবহেলা ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বাসের পরিচালককে গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।


