যশোরে আকস্মিক বজ্রপাতে প্রাণ গেল ১৫ বছরের কিশোরের : নারীসহ আহত ৩

যশোরে আকস্মিক বজ্রপাতে প্রাণ গেল ১৫ বছরের কিশোরের : নারীসহ আহত ৩

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের চান্দুটিয়া গ্রামে কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে পৃথক স্থানে বজ্রপাতের ঘটনায় এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নারীসহ আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। আজ শনিবার (৬ জুন ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটে।

বজ্রপাতে প্রাণ হারানো কিশোরের নাম রয়েল (১৫)। সে চান্দুটিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের শিপনের ছেলে। এই ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন, একই এলাকার রশিদ (৪০), কৃষ্ণ বিশ্বাস (৪৫) ও কমলা রানী। আহতদের মধ্যে রশিদ ও কৃষ্ণের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় খোলা মাঠ থেকে নিজেদের গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছিল কিশোর রয়েল। পথে আকস্মিক একটি তীব্র বজ্রপাত সরাসরি তার ওপর পড়লে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। একই মাঠে থাকা রশিদ নামের অপর এক ব্যক্তি বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এদিকে প্রায় একই সময়ে চান্দুটিয়া হিন্দুপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির উঠানে রোদে শুকাতে দেওয়া মাছ ধরার জাল তুলতে গিয়ে অপর এক বজ্রপাতের শিকার হন কৃষ্ণ বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তি। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কমলা রানী নামের এক নারী সামান্য আহত হন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতেই রাখা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বিকেলের দিকে হঠাৎ আবহাওয়া বৈরী রূপ নেয় এবং মুহুর্মুহু বজ্রপাত হতে থাকে। চোখের পলকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় পুরো চান্দুটিয়া গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সন্তানকে হারিয়ে নিহত রয়েলের পরিবারে এখন চলছে বুকফাটা আর্তনাদ।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন মহল থেকে বর্ষা ও কালবৈশাখীর এই মৌসুমে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, জলাশয়, টিনের চালা বা উঁচু গাছের নিচে অবস্থান না করে দ্রুত নিরাপদ পাকা আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *