স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৬ মে) রাত ১০টার পর যশোর শহরের খালধার রোডের বাস ভবন থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী দীর্ঘ সময় ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
কোতোয়ালি থানার ওসি মাসুম খান জানান, নাশকতার বিভিন্ন অভিযোগে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে ঠিক কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কিংবা আটকের সময় তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কোথায় অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ওসি আরও বলেন, “বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। বিস্তারিত তথ্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি যশোর শহরের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের পক্ষে ঝটিকা মিছিল ও নানা কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এসব কর্মসূচির নেপথ্যে এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনায় যুবলীগের সম্পৃক্ততার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, জেলায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড রোধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এদিকে, সাবেক এই প্রভাবশালী চেয়ারম্যানের আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মধ্যরাতেই যশোরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।

