স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
ডাক বিভাগকে আধুনিকায়নের নামে যশোরের কুষ্টিয়া ও যশোরসহ দেশের ১৪টি জেলায় বাস্তবায়িত ‘মেইল প্রসেসিং ও লজিস্টিক সার্ভিস সেন্টার’ (এমপিসি) প্রকল্প এখন লুটপাটের এক অনন্য নজির হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩৬৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে ভয়াবহ অনিয়ম ও ১৩ কোটি টাকা সরাসরি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সহকারী প্রকল্প পরিচালক (এপিডি) শাহ আলম ভূইয়ার বিরুদ্ধে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, যশোরসহ দেশের মেইল প্রসেসিং সেন্টারগুলোতে ব্যবহারের উপযোগিতা না থাকলেও কেনা হয়েছে ৩৩ ধরনের অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য ২৮৯ কোটি টাকা খরচ দেখানো হলেও অধিকাংশ যন্ত্রই এখন প্যাকেটবন্দি অবস্থায় আবর্জনার মতো পড়ে আছে। যশোরে স্থাপিত সেন্টারে সোলার সিস্টেম, জেনারেটর ও স্মার্ট এক্সেস কন্ট্রোল সিস্টেমের মতো দামি সরঞ্জাম কোনো কাজে আসছে না। পচনশীল পণ্য সংরক্ষণের জন্য ‘চিলার চেম্বার’ স্থাপন করা হলেও সেটির কোনো ব্যবহার নেই।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘স্মার্ট পোস্টেজ সল্যুশন’ কাজ সম্পন্ন না করেই ২০২৪ সালের জুনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রজেক্ট কমপ্লিশন রিপোর্ট (পিসিআর) জমা দেন এপিডি শাহ আলম ভূইয়া। প্রকৃতপক্ষে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত কোনো স্টেশনে এই সল্যুশন চালু হয়নি। মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা গেছে, ৪২০টি ডিভাইসের অধিকাংশ ব্যবহারের আগেই অকেজো হয়ে গেছে। রাজশাহী ও খুলনা সার্কেলের ৯৫ শতাংশ ডিভাইস বর্তমানে অকার্যকর।
স্বচ্ছতা ও অডিট এড়াতে সরকারি ক্রয় নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ‘ডিরেক্ট পার্চেজ মেথড’ (ডিপিএম) অনুসরণ করা হয়। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান না হওয়া সত্ত্বেও একটি নির্দিষ্ট বাহিনীকে সরবরাহকারী দেখিয়ে এই লেনদেন করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, তৎকালীন মহাপরিচালক এস এস ভদ্রের ছত্রছায়ায় শাহ আলম ভূইয়া একক কর্তৃত্বে এই লুটপাট চালিয়েছেন। এস এস ভদ্র দুর্নীতির দায়ে কারাগারে গেলেও নেপথ্য কারিগর শাহ আলম ভূইয়া এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
কোটি কোটি টাকা অপচয়ের বিষয়ে ডাক অধিদফতরের বর্তমান মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, “প্রকল্পের দুর্নীতি নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে জড়িত যে-ই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ছবি-সংগৃহীত
সূত্র: ইত্তেফাক।


