স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার আরবপুর এলাকায় নির্মাণাধীন বহুতল ভবন ‘ডিলাইট সরদার প্যালেস’-এর মূল ঠিকাদার ও শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা বিল দ্রুত পরিশোধের দাবিতে এক বিশাল ও শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন, ২০২৬) সকাল ১১টা থেকে শুরু করে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত যশোর প্রেসক্লাবের সামনের প্রধান সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে ওই ভবনের নির্মাণকাজের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত বিভিন্ন ট্রেডের ঠিকাদার, রাজমিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি, ইলেকট্রিক ও থাই গ্লাস শ্রমিকসহ কয়েকশত ভুক্তভোগী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
শাপলা কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মো. আনিচুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে নিজেদের চরম দুর্দশার কথা তুলে ধরে এবং দ্রুত বকেয়া টাকা পরিশোধের দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন সকাল-সন্ধ্যা স্যানিটারি অ্যান্ড ইলেকট্রিকের মো. আব্দুল খালেক, টাইলস ঠিকাদার মো. বিল্লাল হোসেন, মেসার্স তন্নি ইলেকট্রিকের মো. ইউনুচ আলী, রং ঠিকাদার মো. শফিয়ার রহমান, রওশনআরা ফার্নিচারের মো. আমির হোসেন, থাই ও গ্লাস ঠিকাদার মো. চাঁন আলী এবং গ্রিল ঠিকাদার মো. রিপন হোসেন প্রমুখ ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে উপস্থিত ভুক্তভোগী বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘ডিলাইট সরদার প্যালেস’ ভবনের মূল মালিক আব্দুস সালাম সরদার (হবি) গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর (২০২৫) আকস্মিকভাবে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর ভবনের উত্তরাধিকারীরা প্রথমে নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করেন এবং পরবর্তীতে তা স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেন। নির্মাণকাজে সম্পৃক্ত থাকা আটটি ভিন্ন ভিন্ন ট্রেডের ঠিকাদাররা তাঁদের সম্পন্ন হওয়া কাজের চূড়ান্ত বিল সংশ্লিষ্টদের কাছে সময়মতো জমা দিলেও, দীর্ঘদিন পার হয়ে যাওয়ার পরও এখন পর্যন্ত তাঁদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই পাওনা অর্থ চাইতে গেলে ভবনের বর্তমান উত্তরাধিকারীদের পক্ষ থেকে চরম অসহযোগিতামূলক আচরণ করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন সময়ে ঠিকাদারদের নানামুখী হুমকি ও অহেতুক দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়েছে। এ ঘটনায় নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে এবং পাওনা টাকার বিষয়টি নথিবদ্ধ করতে ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি নং-১৫৬৪, তারিখ-২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) করা হয়েছে বলে বক্তারা জানান।
আন্দোলনরত ঠিকাদাররা মানববন্ধনে সুনির্দিষ্ট হিসাব তুলে ধরে দাবি করেন যে, শাপলা কনস্ট্রাকশনসহ মোট আটজন প্রধান ঠিকাদারের সর্বমোট পাওনা অর্থের পরিমাণ ৬৭ লাখ ২৩ হাজার ২৮৩ টাকা। দীর্ঘদিন ধরে এই বিপুল পরিমাণ পাওনা অর্থ না পেয়ে এবং মালামাল সরবরাহকারীদের দেনা মেটাতে না পেরে প্রায় ৩০০ জন নির্মাণ শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অর্থনৈতিক সংকট ও মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। অনেকের ঘরে তিন বেলা উনুন জ্বলছে না এবং সন্তানদের লেখাপড়াও বন্ধের উপক্রম হয়েছে। বক্তারা এই অমানবিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এবং গরিব শ্রমিকদের পেটের ভাত জোগাতে যশোর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁরা প্রশাসনের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাওনা টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান, অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

