রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) থেকে।। ২৮ জুলাই -২০২৬
ঝিনাইদহের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওএসডি কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) সরোজ কুমার নাথকে জনস্বার্থে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বহুল বিতর্কিত ‘রাতের ভোট’ বাস্তবায়নে প্রধান ভূমিকা রাখার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে অবসরে পাঠানোর তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান প্রয়োগ করে জনস্বার্থে তাঁকে চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তিনি অবসরজনিত সকল সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হবেন। প্রজ্ঞাপন জারির পূর্ব পর্যন্ত তিনি মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) পদে নিয়োজিত ছিলেন।
প্রশাসনিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ঝিনাইদহে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরোজ কুমার নাথের ভূমিকা ছিল চরম বিতর্কিত। তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হয়রানি, ভিত্তিহীন মামলা প্রদান এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার যথেচ্ছ ব্যবহার করে ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভরার প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ক্ষমতাসীন দলকে বিজয়ী করতে মুখ্য ভূমিকা পালনের বিনিময়ে পরবর্তীতে ২০২১ সালে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার তাঁকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেয়, যা প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়।
কেবল নির্বাচনী অনিয়মই নয়, করোনাকালে ঝিনাইদহের ডিসি থাকা অবস্থায় ত্রাণ বিতরণ ও সরকারি অর্থ বরাদ্দে ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি দীর্ঘ চাকরিজীবনে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ বিপুল সম্পদ অর্জনের তথ্যও উন্মোচিত হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও তদন্তের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবার ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। অবশেষে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো। ছবি সংগৃহীত।

