ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রাধীন হাজিরবাগ ইউনিয়নের রায়পটন গ্রামে পারিবারিক কলহ ও শাশুড়ির মানসিক নির্যাতনের জেরে ছাফিয়া খাতুন রিমু (২০) নামের এক নবীন গৃহবধূ নিজের শয়নকক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে মর্মান্তিক আত্মহত্যা করেছেন। আজ বুধবার (৩ জুন, ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ২টার সময় শ্বশুরবাড়ির ঘরের ভেতর এই আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে। নিহত ছাফিয়া খাতুন রিমু বাঁকড়া ইউনিয়নের খোশালনগর গ্রামের আলহাজ্ব শফিকুল ইসলামের কন্যা। কিছুদিন পূর্বে হাজিরবাগ ইউনিয়নের রায়পটন গ্রামের বাসিন্দা ও বাঁকড়া বাজারের বিশিষ্ট বস্ত্র ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের ছেলে রিয়াদ হোসেনের সাথে পারিবারিকভাবে রিমুর ধুমধাম বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে নানা বিষয় নিয়ে অশান্তি দানা বাঁধতে শুরু করায় অবশেষে এই তরুণী আত্মহত্যার পথ বেছে নেন, যা নিয়ে এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের পারিবারিক ও স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ির সাথে বিভিন্ন পারিবারিক বিষয়ে ছাফিয়া খাতুন রিমুর একেবারেই বনিবনা হচ্ছিল না। শাশুড়ির অনবরত কটূক্তি ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি বিগত কয়েক মাস ধরে টানা বাবার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সম্প্রতি পরিবারের মধ্যস্থতায় মিমাংসা হওয়ার পর গত কয়েকদিন আগে রিমু পুনরায় বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ও প্রতিবেশীরা অনেকেই জানিয়েছেন, অত্যন্ত কম বয়সেই ওই গৃহবধূর শরীরে মারাত্মক ডায়াবেটিস রোগ বাসা বেঁধেছিল, যা তাঁদের নিয়মিত পারিবারিক অশান্তি ও কলহের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে প্রতিনিয়ত কাজ করত। আজ বুধবার দুপুরে স্বামী রিয়াদ হোসেন প্রতিদিনের মতো বাঁকড়া বাজার থেকে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়িতে ফিরে আসেন এবং ঘরের ভেতর প্রবেশ করে স্ত্রী রিমুকে কোথাও না পেয়ে ডাকাডাকি শুরু করেন। একপর্যায়ে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে তাকাতেই তিনি দেখতে পান, স্ত্রী রিমু ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানের সাথে নিজের গামছা দিয়ে গলায় শক্ত ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন। এ সময় ঘরের ভেতর থেকে পরিবারের সদস্যদের কান্নাকাটি ও চিৎকারের শব্দ শুনে স্থানীয় প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে এসে ঝুলন্ত মরদেহটি নিচে নামান।
এদিকে লোকমুখে খবর পেয়ে বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) পরিদর্শক কাজী শহিদুল ইসলাম দ্রুত একদল পুলিশসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাদিউর রহমান ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক রহস্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। বাঁকড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে বিষয়টি পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে, তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর এবং পরিবারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ছবি সংগৃহীত।

