ঘরে ঢুকে কুপিয়ে জখম ও বোমা হামলা

ঘরে ঢুকে কুপিয়ে জখম ও বোমা হামলা

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

যশোর শহরের রেলগেট পশ্চিম পাড়া এলাকায় এক দুর্ধর্ষ হামলার ঘটনা ঘটেছে। চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের একটি দল ঘরে ঢুকে দুই যুবককে ছুরিকাঘাত করার পাশাপাশি বোমা হামলা ও অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকায় ভয়াবহ আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে ভিকটিমের নিজ বসতবাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন— রেলগেট পশ্চিম পাড়া এলাকার বাবুর ছেলে রকি এবং আব্দুর রশিদের ছেলে শফিকুল ইসলাম। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সামান্য তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনার জেরে ডাল মিল আদর্শ পাড়া এলাকার মাদক ব্যবসায়ী তারেকের ছেলে ইমন ও তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন যুবক অতর্কিতভাবে তাদের ঘরে প্রবেশ করে। তারা ধারালো চাকু দিয়ে রকি ও শফিকুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। হামলাকারীরা এলাকা ছাড়ার সময় দুই রাউন্ড বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এবং প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে। আহতরা বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কুদরত বাহিনীর ‘নতুন নেতা’ ভাগ্নে ইমন:

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এই হামলার নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। স্থানীয়দের দাবি, হামলাকারী ইমন হলো কুখ্যাত ‘কুদরত বাহিনী’র প্রধান কুদরতের আপন ভাগ্নে। কুদরত বর্তমানে অস্ত্রসহ আটক হয়ে জেলহাজতে থাকলেও তার দাপট কমেনি। কুদরত নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইবাদত খানের আপন ভাই এবং ইমনের মা প্রিয়া হলেন কুদরতের আপন বোন।

এলাকাবাসী জানান, কুদরত জেলে যাওয়ার পর তার সাম্রাজ্যের হাল ধরেছে ভাগ্নে ইমন। মামার দাপট ব্যবহার করে ইমন এলাকায় নতুন করে সন্ত্রাসী ও মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তুচ্ছ একটি হাতাহাতির ঘটনাকে পুঁজি করে নিজের শক্তির জানান দিতেই এই সশস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করা হয় বলে স্থানীয়দের ধারণা।

এই দুর্ধর্ষ হামলার পর রেলগেট এলাকায় চরম উত্তেজনা ও সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও সন্ত্রাসীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ছবি ভিডিও থেকে নেয়া।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *