বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু,কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জেরে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) দুপুরে উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চর চান্দুপাড়া গ্রামের কুড়িকানি এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। এ সময় আক্রান্ত সাইফুলকে বাঁচাতে তাঁর মা এগিয়ে এলে তাঁকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত সাইফুল ইসলাম জানান, কিছুদিন আগে তাঁর ফসলি জমিতে প্রতিপক্ষের গরু ঢুকে ঘাস খাওয়ালে তিনি তাতে তীব্র বাধা দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ তৈরি হলে পরবর্তীতে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি আপোস-মীমাংসাও করে দেওয়া হয়। তবে সেই মীমাংসা উপেক্ষা করে শনিবার দুপুরে শিপন মোল্লা, কাওসার শরীফ, দিন ইসলাম, মহিব ও আল-আমিনসহ ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল সাইফুলের বাড়িতে চড়াও হয়। তারা সাইফুলকে জরুরি কথা আছে বলে ঘর থেকে ডেকে বের করেই লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে।
সাইফুলের মা ফিরোজা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন: “আমার ছেলেকে তারা ঘর থেকে ডেকে নিয়ে পশুর মতো মারধর করছিল। আমি মা হয়ে চোখের সামনে এই দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে বাধা দিতে গেলে শিপন মোল্লা আমাকেও সজোরে থাপ্পড় মেরে মাটিতে ফেলে দেয় এবং আমার কানের দুল ছিনিয়ে নেয়। হামলাকারীরা এ সময় টিপ চাকুসহ দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে আমাদের জীবননাশের হুমকি দিয়ে বীরদর্পে চলে যায়।”
অবশ্য হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান অভিযুক্ত শিপন মোল্লা দাবি করেছেন, “সেখানে অনেক মানুষের উপস্থিতি ছিল। মারপিট শুরু হলে আমি মূলত পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং তাদের ছাড়াতে গিয়েছিলাম। সবাই যদি আমাকে দোষী বলে, তবেই আমি দোষী।”
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন জানান, ঘটনাটি তাঁরা অবগত হয়েছেন। এই মারধরের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি সংগৃহীত।


