বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেট শাখার ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক সাধারণ গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন অভিযোগ উঠেছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও সর্বস্বান্ত ভুক্তভোগী গ্রাহকরা আজ সোমবার (২৯ জুন) বেলা এগারোটার দিকে ব্যাংক শাখাটি ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা নিজেদের জমানো টাকা ফেরতের দাবিতে ব্যাংক প্রাঙ্গণে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ক্যাশিয়ার রিয়াদুল কেবল সাধারণ গ্রাহকদের টাকাই মারেননি, বরং চতুরতার আশ্রয় নিয়ে ওই ব্যাংকের মূল এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলীর ‘মাদার অ্যাকাউন্ট’ থেকেও প্রায় ১০ লাখ টাকা সরিয়ে নিয়ে রাতারাতি গাঁ ঢাকা দিয়েছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, তাঁরা যখন ব্যাংকে টাকা জমা দিতে আসতেন, তখন ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফ তাঁদের কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করে পাসবইয়ে সিল-স্বাক্ষর দিয়ে দিতেন। কিন্তু জামাকৃত সেই অর্থ তিনি ব্যাংকের মূল অনলাইন সিস্টেমে বা সার্ভারে অন্তর্ভুক্ত না করে সরাসরি নিজের পকেটে ঢুকিয়ে আত্মসাৎ করতেন। টাকা জমা দেওয়ার পর গ্রাহকদের মোবাইল ফোনে ব্যাংকের স্বয়ংক্রিয় কোনো বার্তা (এসএমএস) না পৌঁছালে, গ্রাহকরা বিষয়টি নিয়ে ক্যাশিয়ারকে জিজ্ঞেস করতেন। প্রতিবারই রিয়াদুল অত্যন্ত সুকৌশলে “সার্ভারে সমস্যা আছে, কিছুক্ষণের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে” বলে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন।
ধীরে ধীরে অনেকের মোবাইলেই দীর্ঘদিন মেসেজ না আসায় গ্রাহকদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। পরবর্তীতে গ্রাহকরা যখন এজেন্টের মুখোমুখি হন এবং মূল সার্ভার চেক করান, তখন রিয়াদুলের এই বিশাল অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি সবার নজরে আসে। জালিয়াতি ও চুরির ঘটনাটি পুরোপুরি ফাঁস হয়ে গেছে বুঝতে পেরে ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফ দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
এই বিষয়ে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের উক্ত আউটলেটের এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম কর্তৃক গ্রাহকদের এবং আমার এজেন্সির টাকা আত্মসাতের বিষয়টি আমরা ইতিমধ্যেই ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করেছি। নিরীহ ও সাধারণ ভুক্তভোগী গ্রাহকরা যাতে তাঁদের কষ্টার্জিত টাকা দ্রুত ফেরত পান, সেই লক্ষ্যে ব্যাংকের পক্ষ থেকে সব ধরনের আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।” অভিযুক্ত ক্যাশিয়ারকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশে অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।
ছবি-বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু।


