স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
ছাগলে পাটগাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে যশোরের কেশবপুরে এক গৃহবধূকে দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক নারীর বিরুদ্ধে। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের বেলকাটি গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহত শাহনাজ পারভীন (২৬) বেলকাটি গ্রামের শরিফুল ইসলামের স্ত্রী। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে শাহনাজ পারভীন মাঠের পাশে রাস্তার ধারে নিজের একটি ছাগল বেঁধে রেখে বাড়িতে যান। এর কিছুক্ষণ পর ছাগলটি খুঁটি উপড়ে পাশের একটি জমিতে ঢুকে কিছু পাটগাছ খেতে শুরু করে। এটি দেখতে পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে জমির মালিক প্রতিবেশী মনিরুল ইসলামের স্ত্রী আয়েশা বেগম (৩২) ছাগলটি ধরে নিয়ে নিজের বাড়িতে আটকে রাখেন।
পরবর্তীতে শাহনাজ পারভীন মাঠের ধারে ছাগল না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, পাটগাছ খাওয়ার অপরাধে আয়েশা বেগম তাঁর ছাগলটি আটকে রেখেছেন। এরপর দুপুরে শাহনাজ আয়েশার বাড়িতে গিয়ে নিজের ছাগলটি ফেরত চাইলে উভয়ের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে আয়েশা বেগম ঘর থেকে ধারালো দা এনে শাহনাজ পারভীনের কপাল লক্ষ্য করে সজোরে কোপ মারেন। দায়ের কোপে শাহনাজের কপাল কেটে রক্তাক্ত জখম হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
আহত শাহনাজের চিৎকার শুনে স্থানীয় প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, শাহনাজের কপালে গভীর ক্ষত হয়েছে। তবে বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশের একটি দল হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কেশবপুর থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, ছাগল নিয়ে দুই নারীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এই বর্বরোচিত হামলার বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্ত আয়েশা বেগমের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ফাইল ছবি।

