স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের কেশবপুরে এক নামী ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যাচেষ্টা এবং তাঁর বিরুদ্ধে সমাজ ও পরিবারের কাছে নোংরা কুৎসা রটিয়ে চরম মানহানি করার অভিযোগে আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার ভুক্তভোগী বাদী কেশবপুর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আকাশ কুমার সাহা (৩০) নিজে উপস্থিত হয়ে কেশবপুর আমলী আদালতে এলাকার তিন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই ডবল মামলা ঠুকে দেন।
জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার সাহাপাড়া এলাকার শংকর দত্ত (৪৫) ও তাঁর পুত্র নয়ন দত্ত (২৬)-কে এই মামলায় সরাসরি আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে আকাশ কুমার সাহা উল্লেখ করেন, গত ১৫ জুন বেলা দুইটার দিকে কেশবপুরের অনন্ত সড়কে অবস্থিত তাঁর নিজস্ব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘প্রান্ত স্টোর’-এর গোডাউনের সামনে আসামিরা এক নিরীহ নারীকে কেন্দ্র করে আকাশের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চরম মানহানিকর ও সম্পূর্ণ মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করছিলেন। এ সময় ব্যবসায়ী আকাশ কুমার এই নোংরা অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানালে পিতা-পুত্র ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে।
একপর্যায়ে শংকর দত্ত একটি আস্ত ইট দিয়ে আকাশের মাথায় আঘাত করে মাথা থেঁতলে দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি ডান হাত দিয়ে তা প্রতিহত করেন। এতে তাঁর ডান হাতের কবজিতে হাড়ভাঙা ও গুরুতর জখম হয়। ঠিক তখনই শংকরের ছেলে নয়ন দত্ত পেছন থেকে একটি ভারী লোহার রড দিয়ে আকাশের মাথার পেছনে সজোরে আঘাত করে তাঁকে রক্তাক্ত জখম করে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে তাঁর চিৎকার শুনে বাজারের অন্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ছুটে এসে আসামিদের হাত থেকে তাঁকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন। এই ঘটনায় দণ্ডবিধির ৫০০, ৩২৩, ৩০৭ (হত্যাচেষ্টা) ও ৫০৬ (খ) ধারায় মামলাটি আমলে নিয়েছেন আদালত।
এদিকে, একই ঘটনার সূত্র ধরে শংকরী সাহা (৫৭) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় সম্পূর্ণ পৃথক একটি মানহানির মামলা দায়ের করেছেন ব্যবসায়ী আকাশ কুমার সাহা। এই মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, গত ১৪ জুন বেলা দেড়টার দিকে কেশবপুর সাহাপাড়ার অনন্ত সড়কে টিটু সাহার বাড়ির পেছনে আসামি শংকরী সাহা স্থানীয় উৎসুক লোকজনের সামনে এবং খোদ আকাশের স্ত্রীর ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন করে আকাশ কুমার সাহার বিরুদ্ধে এক নারীকে জড়িয়ে চরম অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মিথ্যা মনগড়া অভিযোগ প্রচার করেন।
বাদীর দাবি, পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ডজনখানেক মানুষের সামনে শংকরী সাহা একই নোংরা অভিযোগ পুনরায় উত্থাপন করলে সংশ্লিষ্ট ওই নারী নিজে এসে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং শংকরী সাহার মিথ্যাচার ফাঁস করে দেন। শংকরী সাহার এমন জঘন্য কর্মকাণ্ডে আকাশের দীর্ঘদিনের সামাজিক মর্যাদা, পারিবারিক শান্তি ও ব্যবসায়িক সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং বাজারে তাঁর কোটি টাকার ব্যবসায় নেতিবাচক ধস নেমেছে। বিজ্ঞ আদালত দুই মামলারই আরজি পর্যালোচনা করে আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশ প্রদান করেছেন। ব্যবসায়ীকে মারধর ও কুৎসা রটানোর এই জোড়া মামলায় কেশবপুরের সাধারণ ব্যবসায়ীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।


