নিজস্ব প্রতিবেদক, কেশবপুর (যশোর) :
যশোরের কেশবপুরে বৈবাহিক অধিকার ও স্ত্রীর মর্যাদা ফিরে পেতে আবু শারাফ সাদেক কারিগরি ও বাণিজ্য মহাবিদ্যালয়ের এক প্রভাশকের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাহমুদা সুলতানা রেশমা (৩২) নামে এক নারী। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে কেশবপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জনাকীর্ণ এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার ওপর হওয়া নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রেশমা জানান, তিনি একজন ডিভোর্সি এবং তার ১০ বছরের একটি সন্তান আছে জেনেও ওই কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক মোঃ রফিকুল ইসলাম তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। রফিকুল নিজের প্রথম স্ত্রী অসুস্থ থাকার অজুহাত দেখিয়ে রেশমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং গত ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পারিবারিকভাবে রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
রেশমার অভিযোগ, বিয়ের কিছু দিন সুখে কাটলেও দ্রুতই রফিকুলের আচরণ বদলে যায়। যৌতুকসহ বিভিন্ন অযুহাতে তার ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। একপর্যায়ে রফিকুল তার ব্যবহৃত প্রায় ৩ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে তাকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন। বর্তমানে রেশমা তার অধিকার হারানো ও খোরপোষ না পাওয়ার হুমকিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বিষয়টি নিয়ে প্রভাষক মোঃ রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিয়ের কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, “বনিবনা না হওয়ায় আমি আইনগতভাবেই তাকে ডিভোর্স দিয়েছি। স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও আমার সম্মানহানির চেষ্টা।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে মাহমুদা সুলতানা রেশমা তার হারানো মর্যাদা ফিরে পেতে এবং অভিযুক্ত রফিকুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ছবি সংগৃহীত।


