বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু,কলাপাড়া :
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক অসহায় মাছ বিক্রেতার মেয়ের উপবৃত্তির টাকা ও সিমকার্ড প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মঙ্গলসুখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়াঙ্কা মন্ডলের উপবৃত্তির তিন মেয়াদের টাকা ও সিমকার্ডটি আটকে রেখে জালিয়াতি করার এই অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় নিজাম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বর্তমানে উপবৃত্তির টাকা ও সিমকার্ডটি ফেরতসহ সু-বিচারের আশায় কলাপাড়ার বিভিন্ন দফতরে ও দ্বারে দ্বারে ঘুরছে শিক্ষার্থীর অসহায় পরিবার।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রিয়াঙ্কার পিতা সুজন মন্ডল পেশায় একজন সাধারণ মাছ বিক্রেতা। স্থানীয় বাজারে দিন এনে দিন খেয়ে কোনো মতে সংসার চালানো সুজন মন্ডলের পক্ষে মেয়েকে লেখাপড়া করানোর মতো নূন্যতম সামর্থ্য নেই। তবুও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে স্থানীয় মঙ্গসুখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে আসছিলেন।
অভিযোগে জানা যায়, কিছুদিন আগে স্থানীয় বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন এবং তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কাকে বিনামূল্যে (ফ্রীতে) প্রাইভেট পড়ানোর লোভনীয় আশ্বাস দেয়। এতে সরল বিশ্বাসে রাজি হয় শিক্ষার্থীর দরিদ্র পরিবার। এই সুযোগে নিজাম উদ্দিন চতুরতার আশ্রয় নিয়ে শিক্ষার্থীর পরিবারকে ফুসলিয়ে উপবৃত্তির সরকারি সিমকার্ডটি তাদের নিজেদের নামে নিবন্ধন (বায়োমেট্রিক) করে এবং তা নিজের কাছে আটকে রাখে। কিছুদিন প্রিয়াঙ্কাকে পড়ানোর পর হঠাৎ করেই তারা প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করে দেয়। কিন্তু উপবৃত্তির সিমকার্ডটি ফেরত না দিয়ে বিভিন্ন ধরনের টালবাহানা শুরু করে। ভুক্তভোগী পরিবার পরবর্তীতে জানতে পারে, সিমকার্ডটি আটকে রেখে উপবৃত্তির পরপর ৩ কিস্তির পুরো টাকাই কৌশলে আত্মসাৎ করেছে ওই দম্পতি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিজেকে আইনজীবী (উকিল) পরিচয়দানকারী এই নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে এলাকায় কেবল উপবৃত্তির টাকাই নয়, বরং সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভাতা পাইয়ে দেওয়ার নামেও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বাসুদেব দত্ত নামের অপর এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে জানান, তাঁর স্ত্রী মমতা রানীর (৬৩) নামে সরকারি বয়স্ক ভাতা কার্ড করে দেওয়ার নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই নিজাম উদ্দিন। টাকা নেওয়ার পর এখন আর কারো ফোন রিসিভ করেন না অভিযুক্ত নিজাম।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রিয়াঙ্কা’র পিতা সুজন মন্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মেয়েটাকে ফ্রীতে পড়াবে বলে আমাদের বিশ্বাস অর্জন করেছিল। কিন্তু কিছুদিন পড়ানোর পরেই তারা পড়া বন্ধ করে দেয়। এখন আমার মেয়ের উপবৃত্তির সিমকার্ড আটকে রেখে গরিবের হকের টাকাগুলো চুরি করেছে। আমরা এর বিচার চাই।”
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত নিজাম উদ্দিনের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি পলাতক থাকায় তাঁর কোনো মন্তব্য মেলেনি।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিদা বেগম গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিভাবক যদি আমাদের কাছে এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, তবে পরবর্তী সরকারি সংশোধনী কার্যক্রমের (ডাটা এন্ট্রি) সময়ে ওই পুরোনো সিমকার্ডটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীর মায়ের নামে নতুন একটি সিমকার্ড নাম্বার ডাটাবেজে যুক্ত করে প্রিয়াঙ্কা যেন নিয়মিত উপবৃত্তি পায়, তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।” ছবি সংগৃহীত।

