স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের উপশহর এলাকার বাসিন্দা এবং সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট (সাবেক র্যাব সদস্য) মো. শফিকুল ইসলাম সুমন এবং স্থানীয় যুবদল নেতা রুবেলের বিরুদ্ধে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর অপপ্রচারের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল এই সংবাদটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠার পর আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম সুমন বিচার চেয়ে র্যাব-৬, যশোর ক্যাম্পের অধিনায়ক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
গত ৮ এপ্রিল রাতে ‘উপশহরের বার্তা’ এবং ‘বিএনপি যশোর সদর উপজেলা’ নামক দুটি ফেক ফেসবুক আইডি থেকে শফিকুল ইসলাম সুমন ও যুবদল নেতা রুবেলের নামে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট দেওয়া হয়। এই ঘটনায় গতকালই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন ভুক্তভোগীরা। যুবদল নেতা রুবেল তার সম্মানহানির প্রতিবাদে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যেই কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। আজ সাবেক র্যাব সদস্য শফিকুল ইসলাম সুমনও র্যাব কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়ে আইনি লড়াই জোরদার করলেন।
মজার বিষয় হলো, গতকাল সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার পর এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা শুরু হতেই সেই বিতর্কিত ফেসবুক আইডিগুলো আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সার্চ দিলে আইডিগুলো আর শো করছে না, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে অপরাধীরা ধরা পড়ার ভয়ে আইডিগুলো সরিয়ে নিয়েছে। তবে পুলিশ ও র্যাবের কাছে দেওয়া অভিযোগে আইডির লিংক ও স্ক্রিনশট সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে উপশহর এলাকায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে মৃত পূর্বপুরুষদের টেনে এনে এভাবে কুরুচিপূর্ণ প্রচার চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের গ্রেফতারের দাবি জোরালো হচ্ছে।
র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের কর্মকর্তারা অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করেছেন। সাবেক সেনা সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে একযোগে এই সাইবার হামলার পেছনে কোনো সুসংগঠিত চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ও র্যাবের সাইবার টিম আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় আইডির লোকেশন ও এডমিনদের শনাক্ত করতে কাজ করছে।
ছবি-সংগৃহীত


