জাকির হোসাইন (তুষার) মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
ফেসবুকে ইয়াবা সেবনের একটি ছবি ভাইরাল হওয়াকে কেন্দ্র করে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার কানুটিয়া ও মৌশা গ্রামের দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ৬টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনকে আটক করেছে।
রোববার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে মাগুরা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে এবং অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটককৃতরা হলেন— লাকু শেখ, ইউনুস মোল্লা, বাদশাহ শেখ, সিরাজুল ইসলাম শেখ, নাজমুল বিশ্বাস, সুজন কাজি, শহিদুল ইসলাম শেখ ও সাহেব আলী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে কানুটিয়া গ্রামের হাসানের ছেলে আজম মৌশা এলাকায় ইয়াবা সেবন করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে আজমের ইয়াবা সেবনের একটি ছবি এবং তার বাবা হাসানের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ সংবলিত একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টটি ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয় এবং দুই গ্রামের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।
এরই মধ্যে গাঁজা সেবনের অভিযোগে মৌশা এলাকার রবিউল ইসলাম রবি নামে এক যুবককে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কানুটিয়া এলাকার লিয়াকত নামের এক ব্যক্তি এ ঘটনায় ভূমিকা রাখেন।
রোববার বিকেলে কানুটিয়া বাজার এলাকায় কানুটিয়া গ্রামের লিয়াকত ও হাসান সমর্থকদের সঙ্গে মৌশা গ্রামের বায়েজিদ সমর্থকদের মধ্যে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং হামলার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন। এ সময় রাসেল ফকির, মিঠুন, বায়েজিদ হোসেন ও আবুল বাশার মুন্সিসহ কয়েকজনের মোট ৬টি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, বায়েজিদ হোসেনের বাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি অগ্নিসংযোগও করা হয়।
ভুক্তভোগী বায়েজিদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। আমার বাড়িতে পেট্রোল বোমাও নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমাদের পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।” অন্যদিকে লিয়াকত দাবি করেন, “মাদক সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে।”
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পরস্পরকে দায়ী করা হলেও মূলত মাদক সংশ্লিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে আরও জটিল রূপ নেয়।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হোসেন বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। মাদক ও সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

