স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় গভীর রাতে চলন্ত লোকাল বাসে এক নারী পোশাকশ্রমিককে (২৭) জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার এক রোমহর্ষক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বাসের চালক ও তার সহকারীর (হেলপার) হাত থেকে নিজের সম্ভ্রম ও জীবন বাঁচাতে চলন্ত গাড়ি থেকেই রাস্তায় লাফিয়ে পড়েন ওই ভুক্তভোগী। এতে তিনি মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। এই লোমহর্ষক ঘটনার এক সপ্তাহ পর উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি ও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাভারে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাসচালককে গ্রেফতার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
গতকাল শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) ভোররাতে সাভার মডেল থানাধীন রাজ ফুলবাড়িয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ওই চালককে আটক করা হয়। রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃত বাসচালকের নাম মো. আজিজুল শিকদার ওরফে রাজু (৩৭)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার হরিণহাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে সাভারের রাজ ফুলবাড়িয়া এলাকায় সপরিবারে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারের পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত ‘ইতিহাস পরিবহন’ নামের মিনিবাসটি (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৮৫০৮) ক্রাইম সিন হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে ভুক্তভোগী নারীর খোয়া যাওয়া ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটিও আসামির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যা এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
মামলার আনুষ্ঠানিক এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী আশুলিয়ার ডিইপিজেড-১ এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় জুনিয়র অপারেটর পদে কর্মরত। গত ১২ জুলাই তিনি নিজ জেলা দিনাজপুর থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে রাতে চন্দ্রা চৌরাস্তায় নামেন। সেখান থেকে আশুলিয়া আসার জন্য তিনি ঢাকাগামী ইতিহাস পরিবহনের ওই লোকাল বাসে ওঠেন। বাসটি শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর বাকি সাধারণ যাত্রীরা নেমে গেলে গাড়িটি সম্পূর্ণ ফাঁকা হয়ে যায়।
এরপর চালক ও হেলপার নতুন কোনো যাত্রী না তুলে দ্রুত বাসটি চালাতে শুরু করে। বাস ফাঁকা দেখে আতঙ্কিত হয়ে ওই নারী বারবার গাড়ি থামানোর অনুরোধ করলেও চালক রাজু গতি আরও বাড়িয়ে দেয়। রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে শ্রীপুর ও ইপিজেড এলাকার মধ্যবর্তী একটি নির্জন স্থানে পৌঁছালে বাসের হেলপার ভুক্তভোগীর ওপর চড়াও হয় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় চালক রাজু গাড়ি চালাতে চালাতে হেলপারকে সহযোগিতা করছিল।
কোনো উপায় না দেখে সম্ভ্রম রক্ষার্থে চলন্ত বাসের দরজা খুলে জীবন বাজি রেখে পিচঢালা রাস্তায় লাফিয়ে পড়েন ওই নারী। পরবর্তীতে রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা তরুণীটিকে অন্য একটি বাসের চালক ও যাত্রীরা উদ্ধার করে আশুলিয়ায় তাঁর স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পরদিন তিনি আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
আশুলিয়া থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামির অবস্থান নিশ্চিতের পর তাকে আইনের আওতায় আনা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি রাজুকে সুনির্দিষ্ট মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত পলাতক হেলপারকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। ছবি সংগৃহীত।

