স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের শার্শা উপজেলায় ভোররাতে মোটরসাইকেল ও অবৈধ ট্রলি গাড়ির মধ্যে এক ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া মোটরসাইকেলে থাকা অপর এক আরোহী এবং ট্রলি গাড়ির চালক ও মালিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
আজ সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৬:১০ থেকে ৬:১৫ মিনিটের মধ্যে শার্শা থানাধীন গোগা বাজার থেকে রুদ্রপুরগামী সড়কের সালামের মোড় সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোরে তিনজন আরোহী নিয়ে একটি মোটরসাইকেল গোগা বাজার থেকে রুদ্রপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে রুদ্রপুর অভিমুখী সড়কের জনৈক রফিকুল ইসলামের (৫৫) বসতবাড়ির সামনের পাকা রাস্তায় পৌঁছালে বিপরীত দিক (রুদ্রপুর) থেকে আসা একটি দ্রুতগামী বেপরোয়া ট্রলি গাড়ির সাথে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষ হয়।
এতে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহীদের মধ্যে দুই আরোহী ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহতরা হলেন— বেনাপোল পোর্ট থানার দৌলতপুর গ্রামের জমাত আলীর পুত্র উষা (৩০) এবং যশোর সদর উপজেলার সুজলপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর ভান্ডারীর পুত্র নাহিদ (৪০)।
মোটরসাইকেলে থাকা তৃতীয় আরোহী বেনাপোল পোর্ট থানার দৌলতপুর গ্রামের শাজাহানের পুত্র মো: রুবেল (৩০) মারাত্মক জখম হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। অন্যদিকে, এই ঘটনার পর আহত ট্রলি চালক ও মালিক শার্শার রুদ্রপুর গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে মো: আমিরুল (৩৮) জনরোষ এড়াতে গোপনে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সামিনুল হক, সেকেন্ড অফিসার আশীষ সরকার এবং বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) চঞ্চল ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। দুর্ঘটনা কবলিত যান দুটিকে জব্দ করার পাশাপাশি নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই বিষয়ে থানায় একটি নিয়মিত সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। ছবি সংগৃহীত।


