স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
রাজনৈতিক নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছে সংসদ সচিবালয়।
রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগের পর পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান কে হতে যাচ্ছেন— তা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ও জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উচ্চপর্যায়ে ব্যাপক গুঞ্জন ও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা:
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সর্বজন গ্রহণযোগ্য সজ্জন রাজনীতিক হিসেবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় সবার শীর্ষে রয়েছেন দেশের বর্তমান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের কঠিন সময়ে সুদৃঢ় নেতৃত্ব দেওয়া এবং দেশীয় রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ ও ইতিবাচক অবদানের কারণে তিনি সবার পছন্দের তালিকার প্রথমে রয়েছেন। তিনি মনোনীত হলে হবেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। মন্ত্রিপরিষদের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য জানিয়েছেন, রাষ্ট্র প্রধানের দায়িত্ব পালনে ফখরুলের মতো পরীক্ষিত নেতার বিকল্প আপাতত দল ভাবছে না।
মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খান-এর নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপ্রধানের তালিকায় গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে।
দলীয় রাজনীতির বাইরে একজন প্রাজ্ঞ, বিশিষ্ট ও নিরপেক্ষ ব্যক্তি হিসেবে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ-এর নামও বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহলে উঠে এসেছে। তবে এ বিষয়ে ড. মাহবুব উল্লাহ জানান, সরকারের শীর্ষ পর্যায় ও প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র এখতিয়ার রাখেন।
সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ:
আজ দুপুরে বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, সংবিধানের বিধিমোতাবেক রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক সাংবিধানিক ব্যাখ্যাক্রমে জানান, সংবিধানের ৫০(৩), ৫৪ এবং ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী—রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র স্পিকার গ্রহণ করেন এবং পদ শূন্য হওয়ার সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে কিংবা একক প্রার্থী হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।
উল্লেখ্য, বিগত ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল শপথ নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৪ সালের আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছিলেন। অবশেষে আজ তাঁর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপ্রধানের অধীনে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে দেশ। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

