বিদ্যুৎ সারানোর নামে ঘরে ঢুকে নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা!

বিদ্যুৎ সারানোর নামে ঘরে ঢুকে নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা!

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিজ বসত ঘরে বিদ্যুৎ মেরামতের কাজ করার অজুহাতে এক নারীকে (৪৭) একা পেয়ে শ্লীলতাহানি ও জোরপূর্বক ধর্ষণ চেষ্টার এক লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা মামলায় ফোরকান হাওলাদার (৪৮) নামের এক পেশাদার ইলেকট্রিশিয়ানকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে কলাপাড়া থানা পুলিশ। গতকাল রোববার (৩১ মে, ২০২৬) রাত ৯টার দিকে পৌর শহরের বাদুরতলী স্লুইজ গেট এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত ফোরকান হাওলাদার সম্পর্কে ওই ভুক্তভোগী নারীর আপন মামাতো ভাই বলে জানা গেছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে ওই নারীর বসত ঘরের দোতলায় হঠাৎ বিদ্যুতের যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিলে স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ান ও আত্মীয় ফোরকান হাওলাদারকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ফোরকান তাদের ঘরে গিয়ে দোতলায় বিদ্যুৎ সারানোর কাজ শুরু করে। ওই সময় ঘরের ভেতর ওই নারীকে একা পেয়ে ফোরকান তার ওপর অতর্কিত চড়াও হয়। সে ভুক্তভোগী নারীর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করে এবং তাকে জাপটে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।

ওই আকস্মিক পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী নারী আত্মরক্ষার্থে চিৎকার শুরু করলে, পাশেই থাকা গোয়াল ঘরে কর্মরত তার স্বামী এবং সন্তান দ্রুত দৌড়ে ঘরের দোতলায় ছুটে আসেন। তারা ঘরের ভেতর ফোরকানকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটকে ফেলেন। পরবর্তীতে আশপাশের প্রতিবেশীদের খবর দেওয়া হলে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত ইলেকট্রিশিয়ানকে কলাপাড়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

এই ঘটনার পর আজ সোমবার (১ জুন, ২০২৬) সকালে কলাপাড়া থানায় উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে ফোরকান হাওলাদারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি সুনির্দিষ্ট ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দায়ের করেন। কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। ধর্ষণ চেষ্টার মামলার এজাহারভুক্ত একমাত্র আসামি ফোরকানকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আজ সোমবার দুপুরের দিকেই তাকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হবে। ছবি প্রতিবেদক।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *