যুবদল নেতা বলে কথা !

যুবদল নেতা বলে কথা !

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া  :
কলাপাড়া উপজেলার মৎস্য বন্দর মহিপুরে কোরবানির দাওয়াত দিতে গিয়ে আপন ছোট ভাইয়ের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা তাউয়াব সরদারের বিরুদ্ধে। হামলায় গুরুতর আহত ছোট ভাই আউয়াল সরদার বর্তমানে পটুয়াখালী  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঈদের দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরের পরে মহিপুর থানার সদর মহিপুর ইউনিয়নের মোয়াজ্জেমপুর গ্রামে অভিযুক্ত যুবদল নেতার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত তাউয়াব সরদার স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিকভাবে কোরবানির দাওয়াত পৌঁছে দিতে বড় ভাই খোকন সরদারের পক্ষ থেকে আউয়াল সরদারকে তাউয়াব সরদারের বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে যাওয়ার পর দুই ভাইয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাউয়াব সরদার ক্ষিপ্ত হয়ে আউয়ালের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। মারধরের কারণে আউয়াল সরদারের নাক ফেটে হাড় ভেঙ্গে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্বজনরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহত আউয়াল সরদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি শুধু দাওয়াত দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর আমার বড় ভাই তাউয়াব সরদার আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে। একপর্যায়ে আমার নাকে ঘুষি মেরে রক্তাক্ত করে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে তার নানা আচরণে অতিষ্ঠ। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
তাদের বড় ভাই খোকন সরদার বলেন, ‘পারিবারিক দাওয়াত দিতে গিয়ে এমন হামলার শিকার হতে হবে তা ভাবিনি। হঠাৎ করেই সে মারমুখি আচরণ শুরু করে। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাউয়াব সরদার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সালিশ বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর একাধিক অভিযোগ রয়েছে। দলীয় নেতার এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রত স্থানীয় যুবদল।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত তাউয়াব সরদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মহিপুর থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো মিজানুর রহমান প্যাদা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কেউ দলের পরিচয় ব্যবহার করে অন্যায় করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো,শামীম আহমেদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে আপন ভাইয়ের ওপর যুবদল নেতার এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় মোয়াজ্জেমপুর গ্রামসহ গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *