স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার ৫ নম্বর উপশহর ইউনিয়নে কর্মরত এক গ্রাম পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা, স্মারকলিপি প্রদান এবং অভিযোগপত্র ছুঁড়ে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতা বুলবুল আহমেদ এবং তাঁর ভাই রনি চৌধুরী। আজ এক বিশেষ বিবৃতির মাধ্যমে তাঁরা দাবি করেছেন যে, জেলা প্রশাসক বরাবর পেশকৃত অভিযোগ এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যগুলো সম্পূর্ণ কাল্পনিক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বানোয়াট এবং বাস্তবতা বিবর্জিত। একটি সুনির্দিষ্ট কুচক্রী ও স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে এবং এলাকায় তাঁদের দীর্ঘদিনের অর্জিত সামাজিক সুনাম ও পারিবারিক মর্যাদা ধুলোয় মিশিয়ে দিতে সম্পূর্ণ এজেন্ডাভিত্তিক এই সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করেছে বলে তাঁরা জোরালো দাবি জানান।
বিবৃতিতে যুবদল নেতা বুলবুল আহমেদ ও বিশিষ্ট সমাজসেবক রনি চৌধুরী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, “আমরা স্থানীয় নোংরা ও নোংরা রাজনীতির চরম শিকার হয়েছি। গত ১৫ মে রাতে উপশহর বি-ব্লক বাজারে গ্রাম পুলিশ নজরুল ইসলামকে মারধর বা কোনো ধরনের শারীরিক ও পেশাগত অবমাননার যে দাবি করা হচ্ছে, তার বিন্দুমাত্র কোনো সত্যতা নেই। বরং ঘটনার রাতে ওই গ্রাম পুলিশ মদ্যপ বা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য অবস্থায় যশোরের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নামে অত্যন্ত কুৎসিত, নোংরা ও অশ্লীল ভাষায় প্রকাশ্য বাজারে গালিগালাজ করছিলেন। আমরা এলাকার শান্তিকামী ও সচেতন নাগরিক হিসেবে একজন সরকারি পোশাকধারী কর্মীর মুখের এমন অশালীন ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী আচরণের তীব্র মৌখিক প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম মাত্র। সেখানে কোনো ধরনের হাতাহাতি বা মারপিটের ঘটনা ঘটেনি।”
স্মারকলিপিতে উল্লেখিত জমি সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে দুই ভাই আরও ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, হাউজিং কর্তৃপক্ষের জায়গা অবৈধভাবে দখলের যে তথ্য দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁরা সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া মেনে এবং সরকারি বিধিমালা অক্ষুণ্ণ রেখেই সমস্ত কাজ পরিচালনা করছেন। মূলত, ওই জমির ওপর থাকা কুচক্রী মহলের অবৈধ প্রভাব টিকিয়ে রাখতেই এখন গ্রাম পুলিশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ওই গ্রাম পুলিশকে নানামুখী আর্থিক ও রাজনৈতিক প্রলোভন দেখিয়ে এবং তাঁর পেছনে থেকে একটি মহল এই মিথ্যা অভিযোগ ও স্মারকলিপি তৈরি করিয়েছে, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
গণমাধ্যমের সামনে অভিযোগপত্র ছুঁড়ে ফেলা এবং মুখ খিস্তি করার যে গুরুতর অভিযোগ বুলবুল আহমেদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, তাও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও চক্রান্তের অংশ দাবি করে যুবদল নেতা বুলবুল বলেন, “আইন, প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসকের সম্মানিত দপ্তরের প্রতি আমাদের শতভাগ শ্রদ্ধা ও পূর্ণ আস্থা রয়েছে। দাপ্তরিক সিলমোহর সংবলিত কোনো কাগজ ছুঁড়ে ফেলার মতো ধৃষ্টতা বা ঔদ্ধত্য আমরা কখনোই দেখাইনি। সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করতে এবং ঘটনাটিকে রাজনৈতিক রঙ দিয়ে বিশাল আকার ধারণ করাতেই এই ধরনের কুৎসিত শব্দচয়ন ব্যবহার করে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
বুলবুল আহমেদ ও রনি চৌধুরী জোরালো প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, কুচক্রী মহলের এই অপচেষ্টা মূলত উপশহর এলাকার সামাজিক শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্ট করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র। তাঁরা জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনার এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাসহ (এনএসআই) সকল তদন্তকারী সংস্থাকে বানোয়াট স্মারকলিপির সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সাথে, কোনো প্রকার একপেশে বা সাজানো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সর্বস্তরের সচেতন সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। সত্যের জয় নিশ্চিত করতে তাঁরা যেকোনো আইনি ও সামাজিক তদন্তের মুখোমুখি হতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। ছবি সংগৃহীত।

