পশুর হাটে চাঁদাবাজি করলেই কঠোর ব্যবস্থা-যশোর এসপি’র কড়া হুঁশিয়ারি

পশুর হাটে চাঁদাবাজি করলেই কঠোর ব্যবস্থা-যশোর এসপি’র কড়া হুঁশিয়ারি

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে যশোর জেলার পশুর হাটগুলোর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, ক্রেতা-বিক্রেতাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে জেলার পশুর হাটের ইজারাদারদের সাথে এক বিশেষ মতবিনিময় ও আলোচনা সভা করেছে জেলা পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা ১১টার দিকে যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এই গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলার নবনিযুক্ত ও দূরদর্শী পুলিশ সুপার (এসপি) জনাব সৈয়দ রফিকুল ইসলাম (পিপিএম)।

সভায় আসন্ন ঈদুল আজহার পশুর হাটে আগত দূর-দূরান্তের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা এবং হাটের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ইজারাদারদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার জনাব সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, “আসন্ন ঈদ ও কোরবানির পশুর হাটগুলোকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশের পক্ষ হতে জেলাজুড়ে ব্যাপক ও নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হাটে আগত ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি হাটে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। তারা মূল পশুর হাট ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে।”

এসপি আরও বলেন, সাধারণত কোরবানি ঈদ ও পশুর হাটকে সামনে রেখে এক শ্রেণীর অসাধু চক্রের জাল নোট বা জাল টাকা বাজারে ছাড়ার এক ধরণের অনৈতিক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এ ব্যাপারে ইজারাদারসহ সকলকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। একই সাথে জাল টাকা প্রতিরোধে প্রতিটি পশুর হাটে বাধ্যতামূলকভাবে ‘জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিন’ (Fake Note Detector) এর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখার জন্য ইজারাদারদের কড়া অনুরোধ জানান।

পশুর হাটে বা হাটে আসার পথে কোনো ধরণের হয়রানি বরদাশত করা হবে না উল্লেখ করে সম্মানিত পুলিশ এসপি বলেন, “পশুর হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য সাদা পোশাকে (Civil Dress) মাঠে কাজ করবে। পশুবাহী ট্রাক বা হাটের ভেতর কোনো ধরণের জোরপূর্বক চাঁদা আদায় বা চাঁদাবাজির চেষ্টা করা হলে অপরাধীর রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এ জাতীয় কোনো অপ্রীতিকর তথ্য বা চাঁদাবাজির খবর পাওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিকভাবে জেলা পুলিশকে অবহিত করার জন্য ইজারাদার ও সাধারণ মানুষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তিনি।

যশোর জেলা পুলিশের এই গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন— অতিরিক্ত পুলিশ এসপি (ডিএসবি) জনাব মো. সাখাওয়াত হোসেন, জেলা বিশেষ শাখার ডিআই-১ সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পশুর হাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইজারাদার ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিবৃন্দ। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *