দেশব্যাপী আলোচিত  চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন যশোরে গ্রেফতার!

দেশব্যাপী আলোচিত চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন যশোরে গ্রেফতার!

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে আতঙ্ক ছড়ানো আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’ এবং তার তিন সহযোগীকে ঝটিকা অভিযানে গ্রেফতার করেছে যশোর জেলা ডিবি পুলিশ। ভারত সীমান্ত দিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার ঠিক শেষ মুহূর্তে যশোর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস) মিরাজুল ইসলাম এবং ডিবি পুলিশের তরুণ ও উদীয়মান এসআই কামরুজ্জামানের অতি দুঃসাহসিক, নিখুঁত ও বিচক্ষণ অভিযানে ধরা পড়ে এই ভয়ংকর সন্ত্রাসী দল।

বুধবার ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় এএসপি (অপারেশনস) মিরাজুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় ডিবি পুলিশের চৌকস অফিসার এসআই কামরুজ্জামান তার দলবল নিয়ে এক বিশেষ কৌশলগত চেকপোস্ট বসান। খবর ছিল সীমান্ত পার হওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট একটি পথ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসআই কামরুজ্জামানের সাহসিকতা, উপস্থিত বুদ্ধি এবং তৎক্ষণাৎ গৃহীত সুনির্দিষ্ট আইনি পদক্ষেপে সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের পালানোর সব পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।

যশোর জেলা ডিবি পুলিশ ও এসআই কামরুজ্জামানের এই সময়োচিত ও সাহসিকতাপূর্ণ পেশাদারিত্বের কারণে চট্টগ্রামকে আতঙ্কে রাখা এই শীর্ষ অপরাধীদের শেষ রক্ষা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে যশোর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আত্মগোপন করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। পরে বুধবার সকাল ১০টার দিকে গ্রেফতারকৃত চারজনকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের হস্তান্তর করা হয়।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, ভোররাতে ডিবি ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে ঝুমঝুমপুর এলাকায় সফল চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। পুরো সন্ত্রাসী দলকে হাতেনাতে কাবু করা সম্ভব হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীসহ রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি এলাকায় চাদাবাজি ও গোলাগুলির নেপথ্যে থাকা বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের মূল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিলেন এই ডেভিড ইমন। সম্প্রতি গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রামের চকবাজারে ‘ডিজিটাল ডট নেট’ (ডিডিএন) নামের এক প্রতিষ্ঠানে ৩০-৩৫ জনের সশস্ত্র দল নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা লুটের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন ইমন। হামলার দুদিন আগে তিনি বিদেশি নম্বর থেকে ফোন দিয়ে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন এবং এমনকি পুলিশ প্রধানের ভয় দেখিয়ে হুমকিও প্রদান করেছিলেন।

এছাড়াও চট্টগ্রামের স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসভবনে একাধিকবার প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনার নেপথ্যেও এই অপরাধী চক্রের সরাসরি ভূমিকা ছিল। তবে চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের সীমানা পার হওয়ার স্বপ্ন চুরমার করে দিল যশোর জেলা ডিবি পুলিশ।

এসআই কামরুজ্জামান এবং এএসপি মিরাজুলের নেতৃত্বে চালিত এই নিখুঁত ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানটি গোটা পুলিশ বিভাগের পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। প্রশংসনীয় এই অভিযানের ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন চট্টগ্রাম সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ীরা। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *