বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া :
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গভীর রাতে ঘরের বেড়ার নিচে মাটি খুঁড়ে (সিঁধ কেটে) প্রবেশ করে এক কলেজছাত্রীকে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় ওই তরুণীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী কলেজশিক্ষার্থীর পরিবার জানায়, শুক্রবার রাতে ওই তরুণীর মা তার ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় নদীতে চিংড়ির রেণু আহরণ করতে গিয়েছিলেন। ফলে টিনশেডের ওই ঘরে ওই ছাত্রী একা ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত দেড়টার দিকে দুজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত ঘরের বেড়ার নিচের মাটি খুঁড়ে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা তরুণীকে জাপটে ধরে নির্যাতন শুরু করলে তিনি ধস্তাধস্তি ও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তার গলায় ধারালো বঁটি ধরে হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে পালাক্রমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে।
একপর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ওই শিক্ষার্থী চিৎকার দিয়ে একজনকে আঘাত করেন এবং জানালা খুলে প্রতিবেশীদের ডাকতে থাকেন। তার চিৎকার শুনে পাশের ঘর থেকে চাচা-চাচি ছুটে আসলে মুখোশধারীরা সদর দরজা খুলে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর চাচি জানান, “মধ্যরাতে ভাতিজির চিৎকার শুনে আমি ও আমার স্বামী দ্রুত তাদের ঘরে যাই। গিয়ে দেখি সে ভীষণ কান্নাকাটি করছে। আলো জ্বালিয়ে ঘরের চারপাশ ও খাটের নিচে খুঁজতে গিয়ে দেখি, ঘরের বেড়ার নিচের মাটি খোঁড়া। পরে সে আমাদের জানায়, মুখোশধারীরা ঘরে ঢুকে তার ওপর এই বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে।”
খবর পেয়ে কলাপাড়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া ওই তরুণীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, জেলা পুলিশ সুপার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছেন এবং অপরাধীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।
প্রতীকী-ছবি


