স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ রোগীদের জিম্মি করে ‘পকেট কাটা’ আর নিয়ম না মেনে ব্যবসা চালানো দুই প্রতিষ্ঠানের ডেরায় হানা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গুঞ্জন বিশ্বাসের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে শহরের আলোচিত ‘ডিএনএ’ এবং ‘পেয়ারলেস’ ডায়াগনস্টিক সেন্টার দুটিকে সিলগালা করে স্থায়ীভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিভিল সার্জন অফিস ও অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছিল। বিশেষ করে ‘ডিএনএ’ ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি হয়ে উঠেছিল দালালদের প্রধান আস্তানা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের ভুল বুঝিয়ে এখানে আনা হতো এবং অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষার নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ভুল রিপোর্ট দিয়ে রোগীদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।
অন্যদিকে, ‘পেয়ারলেস’ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিত্র আরও ভয়াবহ। কোনো প্রকার সরকারি অনুমোদন বা বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই তারা বছরের পর বছর ‘ক্লিনিক’ ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এমন অবৈধ ক্লিনিক বাণিজ্যের প্রমাণ মেলায় সেটিও সিলগালা করা হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গুঞ্জন বিশ্বাস সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারও নেই। যারা দালালের ওপর ভর করে বা লাইসেন্স ছাড়া ক্লিনিক চালাচ্ছেন, তাদের জন্য এই অভিযান একটি বার্তা। জনস্বার্থে এই ধরনের অ্যাকশন নিয়মিত চলবে।”
বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই দুই প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম বন্ধ হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের এই কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে যশোরের স্বাস্থ্য খাতে দালালের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসবে। ছবি সংগৃহীত।

