স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে রাতের আঁধারে সরকার বিরোধী মিছিল করার অভিযোগে সাবেক প্রতিমন্ত্রী, পাঁচ সাবেক সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগের ৪০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। একই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফ উদ্দিন বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়,গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন আজিজ সিটি রোড এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা একত্রিত হন। তারা মোমবাতি ও হারিকেন জ্বালিয়ে সরকার বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সমাবেশ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত নেতাকর্মীরা দ্রুত ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়।
মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন—যশোর-৬ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, যশোর-৪ আসনের সাবেক এমপি রণজিৎ রায়, যশোর-৫ আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, যশোর-২ আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, যশোর-৩ আসনের সাবেক এমপি কাজী নাবিল আহমেদসহ আরও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।
এছাড়া সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম ফন্টু চাকলাদার, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম রেন্টু চাকলাদার, যুবলীগ নেতা শহীদুজ্জামান বাবু (দাঁতাল বাবু)সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর নামও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, নামীয় আসামিদের মধ্যে প্রথম ১৩ জনকে সংগঠনের গডফাদার ও অর্থদাতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বাকি আসামিরা সংগঠনের সক্রিয় সদস্য হিসেবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
পুলিশ জানায়, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আসামির তালিকায় যারা রয়েছেন ,যশোর- ৬ আসনের সাবেক এমপি ও ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, যশোর-৪ আসনের সাবেক এমপি রণজিৎ রায়, যশোর-৫ আসনের সাবেক এমপি ও প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, যশোর-২ আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, যশোর-৩ আসনের সাবেক এমপি কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-৫ আসনের সাবেক এমপি ইয়াকুব আলী, যশোর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম ফন্টু চাক্রাদার, যশোর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম রেন্টু চাকলাদার, যুবলীগের সাবেক নেতা শহীদুজ্জামান বাবু ওরফেদাতাল বাবু, শেখ আতিকুর রহমান বাবু ওরফে জার্মান বাবু, যশোর শহরের পুরাতনকসবা কাজীপাড়ার ইয়াকুব আলীর ছেলে ফাহিম মোল্লা, রনজিত রায়ের ছেলে রাজীব রায়, সাবেক মন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের ছেলে শুভ ভট্টাচার্য, যুবলীগ নেতা মাহমুদ হাসান বিপু, জাহিদুল ইসলাম লাবু, কামাল হোসেন পর্বত, মনি, তৌফিক, সোহান, লোকমানের ছেলে বাবলু, মৃত কিবরিয়ার ছেলে ওয়াসেল, মৃত কাটোর ছেলে রবি, মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর, মাসুদের ছেলে আব্দুল্লাহ, সুজন, পট্টি, নুরুল আলমের ছেলে শরিফুল আলম সুজন, আইজুলের ছেলে চয়ন, শাওন, মুন্সি বাবুর ছেলে সবুজ, আরিফ আহাদুল, বজলু খলিফার ছেলের শাহাদত, মৃত খালেকের ছেলে আমিরুল, মৃত হারুনের ছেলে শহীদ, মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে ডাবলু, সরোয়ারের ছেলে মিলন, মন্টুর ছেলে রিমন, বেজপাড়ার বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা মোহিত কুমার নাথ, তার ছেলে রতি নাথ এবং ষষ্ঠীতলা পাড়ার সৈয়দ আহমেদের ছেলে আনোয়ার হোসেন বাবু।
ছবি সংগৃহীত।


