দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ডের নামে চাঁদাবাজী !

দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ডের নামে চাঁদাবাজী !

রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) থেকে :
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ডের নামে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দাবির প্রতিবাদে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদের কাছে বুধবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ৩৬ জন সাধারণ দলিল লেখক।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ অবৈধ সমিতির নামে সিন্ডিকেট তৈরি করে অন্যায় ও অবৈধভাবে চাঁদাবাজি করেছে। এতে জমি ক্রেতা-বিক্রেতারা চরম হয়রানী ও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ৫ আগষ্টের পর সমিতি না থাকলেও নির্বাচনের পর হঠাৎ কয়েকজন দলিল লেখক স্বঘোষিতভাবে কমিটির আহবায়ক ও যুগ্ম আহবায়ক সেজে অতীতের মতো সাধারণ মানুষকে জিম্মি ও হয়রানির মাধ্যমে অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নিতে দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ড নামে চাঁদাবাজীতে লিপ্ত হয়েছে।

দলিল লেখক আবু সাইদ মুক্তি জানান, সাধারণ দলিল লেখকদের মতামত না নিয়েই একতরফা ভাবে যুবদল নেতা ফারুক হোসেন ও আজিজুল লস্কর কমিটি গঠন করেছে। কমিটি গঠনের পর তারা দলিল লেখক ফান্ডের নামে সাধারণ দলিল লেখকদের হোয়াটসঅ্যাপে একটি তালিকা পাঠিয়ে সরকারি ফি বাদে শতক ও কবলা মূল্য প্রতি অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কথা জানায়।

তাদের নির্দেশনায় বলা হয়েছে সরকারি ফি বাদে হেবা, পাওয়ার ও বন্টন নামা শতক প্রতি ৩ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে। এছাড়াও সরকারি ফি বাদে কতিথ দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ডকে কবলা মূল্য সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা মূল্যের জমিতে ২ হাজার ৫০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা মূল্যের জমিতে ৮৫ হাজার টাকা দিতে বলা হয়।

দলিল লেখকরা অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে নাসির উদ্দিন নামে এক দলিল লেখক সমিতির নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সাধারণ ডাব বিক্রেতা থেকে নাসির ভিআইপি ও পরে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এখন হঠাৎ যুবদলের দুই নেতা জোরপূর্বক নিজেদেরকে আহবায়ক ও সদস্য সচিব ঘোষণা করে সমিতির নামে চাঁদাবাজি করার পায়তারা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

দলিল লেখক আরিফ জানান, তারা দীর্ঘদিন এক নাসিরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিলাম। এখন আবার কিছু লোক নাসির সাজার চেষ্টা করছে। আমরা চাই না সমিতি হোক। সমিতি হলে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে টাকা আদায় করে সমিতিকে দিতে হবে।

দলিল লেখক ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, যারা দলিল করতে আসবে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিতেও চাই না, আর এই চাঁদাবাজি সমিতিকে দিতেও চাই না। আমরা এই লক্ষে ইউএনও বরাবর লিখিত দিয়েছি।

এ ব্যাপারে দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ডের কথিত আহবায়ক ফারুক হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “যে তালিকার কথা বলা হচ্ছে সেটি সঠিক নয়। অন্য কেউ বানিয়ে আমাদের নাম দিয়ে লেখকদের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে পারে। তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না”।

বিষয়টি নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ বুধবার দুপুরে বলেন, কয়েকজন সাধারণ দলিল লেখকরা এসে একটি লিখিত দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *