মণিরামপুর থানার ওসি ও সাংবাদিক নামধারী চক্রের জালিয়াতি : জিম্মি করে ডা. রাফসানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা!

মণিরামপুর থানার ওসি ও সাংবাদিক নামধারী চক্রের জালিয়াতি : জিম্মি করে ডা. রাফসানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা!

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

যশোরের মণিরামপুরের চিকিৎসক ডা. রাফসানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ধর্ষণের মামলা উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেছেন মামলার বাদী সামিয়া আফরুজ শান্তি। তিনি দাবি করেছেন কতিপয় সাংবাদিক ও মণিরামপুর থানার ওসির সহায়তায় থানায় আটকে রেখে তাকে দিয়ে মিথ্যা তথ্য সম্বলিত কাগজ স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে মামলা করে। পিতা-মাতা থানায় গেলও তাদের সাথে তাকে দেখা করতে দেয়া হয়নি। ওই চক্রের কারণে তিনি এক মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করেছেন। তাকে নিয়ে ফের কোন মিথ্যা আপত্তিকর সংবাদ প্রকাশ করলে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হবেন। একইসাথে তিনি ওসি এবং সাংবাদিক নামধারী জালিয়াত চক্রের শাস্তি দাবি করেন।
আজ রোববার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিতভাবে এ দাবি করেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী।
সংবাদ সম্মেলনে ওই তরুণী বলেন,পারিবারিক কলহকে পুঁজি করে তাকে জিম্মি করা হয় এবং তার দুলাভাই ডা. রাফসানের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে তাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২০ সালে করোনার সময় তিনি তার বোন সাজেদা আফরুজ ও দুলাভাই ডা. রাফসানের সাথে যশোর বসবাস শুরু করেন। পারিবারিক কিছু ভুল বোঝাবুঝির জেরে সামিয়া তার দুলাভাই ও বোনের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে তিনি লালমনিরহাটে ফিরে যান। এরপর ‘সীমা আক্তার’ ও ‘প্রান্ত খান’ নামের ফেক ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে তিনি ডা. রাফসানের কিছু ছবি ছড়িয়ে দেন। এর সূত্র ধরে স্বদেশ বিচিত্রার সাংবাদিক আসিফ আকবর সেতু ও সার্চ টুডের সাংবাদিক নূর ইসলাম নাহিদসহ একটি চক্র তার সাথে যোগাযোগ করে। তারা তাকে ভয় দেখায় যে ডা. রাফসান তাকে ‘পয়জন ইনজেকশন’ দিয়ে মেরে ফেলবে অথবা মানহানির মামলা করবে। চক্রটি তাকে দিয়ে জোরপূর্বক আত্মহত্যার হুমকির ভিডিও রেকর্ড করায় এবং পরবর্তীতে ডা. রাফসানের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। পরিস্থিতি ঘোলাটে হওয়ায় ১৩ মার্চ ডা. রাফসান ও তার পরিবারের সদস্যরা একসাথে বসে মীমাংসা হয়। এরপর সাংবাদিক সেতু যোগাযোগ করলে জানাই সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। এসময় সাংবাদিক সেতু দাবি করে তাদের সাথে অনেক বড় বড় সাংবাদিকরা আছে, এখন তারাই বিষয়টি দেখবে।
সামিয়ার অভিযোগ, সর্বশেষ ১৫ মার্চ সাংবাদিক আসিফ আকবর সেতু তাকে ফোন করে বোঝায় ডা. রাফসান তার ক্ষতি করবে। এজন্য তাকে যশোর চলে আসতে বলে। তার কথায় প্রভাবিত হয়ে ওই রাতে তিনি যশোরের উদ্দেশে রওনা হন। সকালে যশোর পৌছালে তাকে মণিরামপুরে সাংবাদিক তৌহিদের কাছে যেতে বলে। সেখানে গেলে সে মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি জাকির হোসেনের কাছে নিয় যায়। এরপর তারা দুপুরে আমাকে থানায় নিয়ে যায়। মণিরামপুর থানায় রেখে ১৫ হাজার টাকা দাবি করে। কিন্তু তিনি টাকা দেননি। পরবর্তীতে থানার একটি কক্ষে তাকে রাখে এবং পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে নিষেধ করে। এরপর তারা একটি অভিযোগ পত্র লিখে আমার স্বাক্ষর নেয়। কিন্তু ওই কপিতে যেসব কথা লেখা হয়েছে তাতে আমি আপত্তি জানালেও তারা তা দিয়ে মামলা দায়ের করে। এরপর আমার ভগ্নিপতি ডাঃ রাফসানের কাছে মোটা অংকের মুক্তিপণ ও চাঁদা দাবি করে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সামিয়া দাবি করেন, মণিরামপুর থানার ওসি তাকে দুইদিন থানায় আটকে রাখে। এমনকি তার বাবা-মা তাকে খুঁজতে থানায় এলেও তাকে দেখা করতে দেয়নি। তাদের বলা হয়েছে তারা কিছুই জানে না।
সামিয়া আফরুজ শান্তি বলেন, আমার সরলতা ও পাগলামির সুযোগ নিয়ে তারা চাঁদাবাজির ব্যবসায় ব্যবহার করেছে। ডা. রাফসানের সম্মানহানি করতে আমার মেজ বোন সুরমাও এই চক্রের সাথে যোগ দিয়ে ১০ লক্ষ টাকার একটি ভুয়া কল রেকর্ড সাজায়।
বর্তমানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এই তরুণী জানান, এই ঘটনার পর তিনি আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন। তিনি মণিরামপুর থানার ওসিসহ এই চাঁদাবাজ ও প্রতারক চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। ভবিষ্যতে কোনো মিথ্যা সংবাদ প্রচার হলে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেবেন এবং তার জন্য ওই চক্রটিকে দায়ী থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে সামিয়া আফরুজ শান্তির সাথে তার পিতা-মাতা ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি-সংগৃহীত

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *